খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘানা। টুর্নামেন্টের বর্তমান গ্রুপ পর্বে উভয় দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণে দুই দলের এই আসন্ন ম্যাচটি গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থান নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখে তারা ৩-০ ব্যবধানের একটি দাপুটে জয় তুলে নেয়। ইংল্যান্ডের পক্ষে গোল তিনটি করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন, উইঙ্গার বুকায়ো সাকা এবং বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফিল ফোডেন। পুরো ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডের বল দখল (বল পজেশন) ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং তারা শট অন টার্গেটেও প্রতিপক্ষের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এই জয়ের মাধ্যমে ৩ পয়েন্ট এবং +৩ গোল ব্যবধান নিয়ে ইংল্যান্ড গ্রুপের শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, ঘানা তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মেক্সিকোর মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচের শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভর করে ঘানা ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। ঘানার পক্ষে জয়সূচক গোল দুটি করেন মোহাম্মদ কুদুস এবং ইনাকি উইলিয়ামস। এই জয়ের ফলে ঘানার সংগ্রহেও রয়েছে ৩ পয়েন্ট এবং তারা গোল ব্যবধানে ইংল্যান্ডের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছে।
উভয় দলের প্রথম ম্যাচের তুলনামূলক পরিসংখ্যান নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| দলের নাম | প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ | ম্যাচের ফলাফল | গোলদাতা ফুটবলারগণ | অর্জিত পয়েন্ট | বল দখল (পজেশন) |
| ইংল্যান্ড | অস্ট্রেলিয়া | ৩-০ (জয়) | হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন | ৩ | ৬৫% |
| ঘানা | মেক্সিকো | ২-১ (জয়) | মোহাম্মদ কুদুস, ইনাকি উইলিয়ামস | ৩ | — |
ইংল্যান্ড ফুটবল দল বর্তমানে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে। হ্যারি কেইনের মতো অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের পাশাপাশি জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা এবং ফিল ফোডেনের মতো তরুণ ফুটবলারদের উপস্থিতি দলটির আক্রমণভাগ ও মধ্যমাঠকে শক্তিশালী করেছে। ইংল্যান্ডের মূল কৌশল হলো বল দখলে রেখে নিখুঁত পাসিংয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিত আক্রমণ সাজানো এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
বিপরীতে, ঘানা ফুটবল দলের মূল শক্তি তাদের গতি এবং শারীরিক সক্ষমতা। বিশেষ করে আক্রমণভাগে মোহাম্মদ কুদুসের গতি এবং কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা। ঘানা সাধারণত প্রতিপক্ষের ভুলের জন্য অপেক্ষা করে এবং রক্ষণভাগ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে (কাউন্টার অ্যাটাক) গিয়ে গোল করতে পছন্দ করে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ড এবং ঘানার মধ্যকার লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয়। এর আগে ২০১১ সালে দল দুটি একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। সেই একমাত্র ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত উভয় দলই পরস্পরের বিপক্ষে অপরাজিত রয়েছে।
কাগজে-কলমে অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচ খেলার অভ্যাসের কারণে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ঘানার গতি এবং কাউন্টার অ্যাটাক করার ক্ষমতা ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে ব্যবধান তৈরি করতে পারে। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটির ফলাফল দুই দলের নকআউট পর্বের পথকে অনেকটাই সহজ করে তুলবে।