খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহনে নাশকতামূলক হামলার আশঙ্কায় সারা দেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের সব ইউনিট ও রেঞ্জ কার্যালয়গুলোকে যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদারসহ কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তার মাধ্যমে দেশের সব বিভাগীয় মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটের প্রধানদের কাছে এ বার্তা পাঠানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এই বার্তাকে ‘অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এতে বেশ কিছু সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
নিরাপদ স্থানে পার্কিং: ডিউটি পালনকালে বা প্রয়োজনে পুলিশের যানবাহন (যেমন: জিপ, পিকআপ, বাস ইত্যাদি) সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।
সার্বক্ষণিক নজরদারি: কোনো অবস্থাতেই পুলিশের ব্যবহৃত গাড়ি অরক্ষিত, পরিত্যক্ত কিংবা নজরদারিহীন অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। গাড়ি থামানোর পর থেকে পুনরায় রওনা হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক প্রহারা নিশ্চিত করতে হবে।
কম্পাউন্ডের নিরাপত্তা: দায়িত্ব পালন শেষে থানা, পুলিশ লাইনস, মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তর, ফাঁড়ি এবং অন্যান্য অফিস কম্পাউন্ডে রাখা সব ধরনের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে।
সন্দেহভাজনদের ওপর নজর: গাড়ি পার্কিং করার স্থানগুলোর আশেপাশে সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর উপস্থিতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় শোকের মাস আগস্টকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রবিরোধী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত নানামুখী অপশক্তির নাশকতামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। এ বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, আগস্ট মাস এলেই বিভিন্ন অপশক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেই এই পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেবল পুলিশ সদস্যরাই নন, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক স্বাভাবিকতা ধরে রাখাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। আর সে কারণেই আগাম ঝুঁকি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে পুলিশের প্রতিটি যানবাহন ও স্থাপনাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দেশনাসমূহ অবিলম্বে কার্যকর করতে প্রতি থানা ও রেঞ্জ পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হচ্ছে, যাতে করে পুলিশি টহল ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রকার ঢিলেঢালা ভাব না থাকে।
মন্তব্য