খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দল। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির (Anti-Corruption Code) পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণার ঠিক কয়েক দিন আগে এই সংবাদে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আইসিসির তদন্ত অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত ২০২৩-২৪ মৌসুমে বার্বাডোজে আয়োজিত ‘বিম-১০’ (Beam-10) টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক। যদিও টুর্নামেন্টটি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (CWI) আওতাভুক্ত ছিল, তবে আইসিসি জানিয়েছে যে অভিযোগগুলোর মধ্যে দুটি সরাসরি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঙ্গেও সম্পর্কিত। জোন্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টা, দুর্নীতির প্রস্তাব গোপন রাখা এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিচে অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
| আইসিসি/সিডব্লুআই বিধি | অভিযোগের ধরন | বিবরণ |
| অনুচ্ছেদ ২.৪.৪ | তথ্য গোপন করা | কোনো দুর্নীতিমূলক আচরণের প্রস্তাব পেয়েও কর্তৃপক্ষকে না জানানো। |
| অনুচ্ছেদ ২.৪.৭ | তদন্তে অসহযোগিতা | দুর্নীতির তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান না করা বা বাধা সৃষ্টি করা। |
| ফিক্সিং ও প্ররোচনা | প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা | ম্যাচ বা ইভেন্টের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা বা প্ররোচনা দেওয়া। |
| গোপন চুক্তি | সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অবহিত না করা | আর্থিক বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোনো গোপন প্রস্তাব গ্রহণ করা। |
অ্যারন জোন্স বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। বিশ্বকাপের জন্য ১৮ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ। আগামী মাসেই বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ জনের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। তবে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি কেবল বিশ্বকাপ নয়, ক্রিকেট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হবেন। আইসিসি তাঁকে এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দিয়েছে। তবে এই অল্প সময়ে অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে অ্যারন জোন্স যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইনআপের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তাঁর চাহিদা ছিল ব্যাপক। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI): ৫২টি ম্যাচে অংশগ্রহণ।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (T20I): ৪৮টি ম্যাচে অংশগ্রহণ।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ: সিপিএল (CPL), বিপিএল (BPL), এবং এমএলসি (MLC)-তে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, জোন্সের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো একটি ‘বৃহত্তর তদন্তের অংশ’। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আরও কয়েকজন ক্রিকেটার বা কর্মকর্তা এই দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য এটি একটি হতাশাজনক খবর, কারণ বড় টুর্নামেন্টের আগে দলের মূল খেলোয়াড়কে হারানো তাঁদের মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিসি এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে পুনঃব্যক্ত করেছে।