বাংলাদেশ ব্যাংক জার্মান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চায়

বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে প্রচলিত ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নতুন নোটে নিরাপত্তা সুতা সংযোজনের জন্য যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরবরাহকারী কোম্পানি বাদ দিয়ে জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। প্রস্তাবিত জার্মান কোম্পানিটি হলো মেসার্স পেপারফেব্রিক লুইজেনথাল জিএমবিএইচ, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিল। ব্যাংকের দাবি, এই কোম্পানির মাধ্যমে নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করলে প্রতি বছরের নোট মুদ্রণের ব্যয় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা কমানো সম্ভব।

প্রক্রিয়া ও সরকারী অনুমোদন

সূত্র জানিয়েছে, জার্মান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এর দুই দিন পর, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। নতুন সরকারের অনুমোদনের পরই জার্মান কোম্পানির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য নিরাপত্তা সুতা সরবরাহের প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর দরপত্র খোলার সময় তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে জার্মান কোম্পানিটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। ৮ ডিসেম্বর তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে নমুনা পাঠায়। পরে নোট ও মুদ্রা ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটি এই নমুনা পরীক্ষা করে, বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো ও টেক্সট দৃশ্যমান রাখার শর্তে নিরাপত্তা সুতা সংযোজনের অনুমোদন দেয়।

তুলনামূলক খরচ বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে, জার্মান কোম্পানির মাল্টিকোড নিরাপত্তা সুতার দাম যুক্তরাজ্যের কোম্পানি ডি লা রুই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-এর ‘স্টারক্রোম’ সুতার চেয়ে ৩৫.৫৫% কম।

সরবরাহকারী কোম্পানি সুতার ধরন প্রতি কিলোমিটারে মূল্য (ইউরো) যুক্তরাজ্যের তুলনায় পার্থক্য (%)
মেসার্স পেপারফেব্রিক লুইজেনথাল জিএমবিএইচ মাল্টিকোড ১৬.৬০ -৮.৮
ডি লা রুই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড স্টারক্রোম ১৮.২০ —

স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং পূর্ববর্তী চুক্তি

সূত্র জানিয়েছে, টেন্ডার সিডিউল ও নোট স্পেসিফিকেশন কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাভাবিক নিয়ম। পূর্বের সরকার যুক্তরাজ্যের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল। ২০২০ সালে ডি লা রুই একটি নিউজলেটারে বাংলাদেশের ১০০ টাকার নোটের ছবির গ্রাফিক্স ব্যবহার করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, “এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে চুক্তির অনুমোদনের জন্যই অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখানে অন্য কোনো বিষয় নেই।”

নতুন চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নোট মুদ্রণের ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পারবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।