খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশের আটটি কারাগারে একযোগে হামলা চালানো হলে পাঁচটি কারাগার থেকে জঙ্গিসহ দুই হাজারের বেশি বন্দি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনও প্রায় ৭০০ পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে,পালিয়ে যাওয়া এসব বন্দির মধ্যে হলি আর্টিজানে হামলাকারীসহ ৯ জন দুর্ধর্ষ জঙ্গিও রয়েছে।
গত বছর ১৯ জুলাই নরসিংদী কারাগারে হামলা ও কারা বিদ্রোহের ঘটনায় পালিয়ে যায় ৮২৬ জন বন্দি। এরপর ৬ থেকে ৮ আগস্ট সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, শেরপুর ও গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার এই ৪টি কারাগার থেকে আরও প্রায় বারো শ বন্দি পালিয়ে যায়। ওই সময়ে কারাগার থেকে অস্ত্র, গোলা-বারুদ থেকে শুরু করে চাল-ডাল পর্যন্ত লুট করা হয়।
কারা সূত্র জানায়, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি ও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৯৮ জন বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি ছিলো ৯ জন। এ ছাড়া এখনো ৭০ জনের মতো বিচারাধীন জঙ্গি পলাতক রয়েছে। এ ছাড়া খোয়া যাওয়া ৯২টি অস্ত্রের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধারের বাইরে রয়েছে ২৭টি। বিভিন্ন কারাগারে বিশৃঙ্খলায় ২৮২ জন কারারক্ষী আহত হন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গত বছর ১৯ জুলাই প্রথম নরসিংদী কারাগারে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই সময় পাঁচজন কারারক্ষী আহত হয়। ঘটনার পর অনেক বন্দি আবার কারাগারে ফিরে আসে। কিন্তু দুই দিন পর্যন্ত তাদের কারাগারে নিয়ে রাখার মতো অবস্থা ছিল না।
সূত্র মতে, কারাগারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে ৮ আগস্ট। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বিদ্রোহ করে বন্দিরা। তারা গেট ভেঙে ও দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকাতে যাওয়া বন্দিদের ওপর কারারক্ষীরা গুলি চালান। ওই দিন গুলিতে ছয়জন বন্দি নিহত হয়। এর পরও কারাগারটি থেকে ২০৯ বন্দি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
একই দিন দুপুরে জামালপুর কারাগারের ভেতরের বন্দিরা বিদ্রোহ শুরু করে। এক পর্যায়ে বন্দিদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারারক্ষীরা গুলি চালালে এই কারাগারে সাত বন্দির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জেলার ও তিন কারারক্ষীসহ আরো ১৯ জন আহত হয়।
৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ফটকের তালা ভেঙে শতাধিক বন্দি পালিয়ে যায়। বন্দিদের মারধরে অন্তত ২৫ কারারক্ষী আহত হয়।
জানা গেছে, গত বছর ৬ আগস্ট সকালে নানা অনিয়ম ও বন্দিদের মারধরের অভিযোগ তুলে এবং মুক্তির দাবিতে কয়েকশ বন্দি বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করেন তারা। কারারক্ষীরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে বন্দিরা দেয়াল টপকে বেরিয়ে যেতে থাকে। তখন কারারক্ষীরা গুলি চালান। এতে ছয় বন্দি নিহত হয়।
গত বছর ৮ আগস্ট দুপুর ২টার পর জামালপুর জেলা কারাগারে থাকা বন্দিরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে।
ওই সময় কারারক্ষীদের ওপর আক্রমণ করে তারা। এক পর্যায়ে তারা কারাগারে আগুন দেয়। কারাগারের একটি গেটও ভেঙে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারারক্ষীরা গুলি চালালে সাতজন নিহত হয়।
খবরওয়ালা/এমইউ