বাংলা একাডেমির নজরুল পুরস্কার দুই হাজার ছাব্বিশ-এর জন্য বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরাকে তাঁর দীর্ঘদিনের শিল্পচর্চা, পরিবেশনা এবং কাজী নজরুল ইসলামের গান প্রচার ও প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একশ সাতাশতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আগে এই পুরস্কারের নাম ঘোষণা করা হয়।
ফাতেমা তুজ জোহরা কয়েক দশক ধরে নজরুল সংগীতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে বহু বছর ধরে নজরুলের গান পরিবেশন করে আসছেন। দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে তাঁর পরিবেশনা নজরুল সংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শুধু পরিবেশনায় নয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নজরুল সংগীতের শিক্ষা ও সংরক্ষণেও সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী, যারা পরবর্তীতে এই ধারাকে এগিয়ে নিচ্ছে।
এ বছরের নজরুল পুরস্কারের আরেকজন প্রাপক হলেন বিশিষ্ট গবেষক রাশিদুন নবী। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য এবং দার্শনিক চিন্তা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার জন্য এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। নজরুল বিষয়ক তাঁর প্রবন্ধ ও গ্রন্থ বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিবেচনা করা হয়।
পুরস্কার ঘোষণার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, তিনি মানসিকভাবে কিছুটা হতাশ ছিলেন এবং মনে হয়েছিল যেন তিনি সমাজের স্মৃতি থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময়ে এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এক আনন্দের বার্তা হয়ে এসেছে। তিনি বাংলা একাডেমির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, এই সম্মান তাঁর সংগীতচর্চাকে আরও গভীরভাবে চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, আগামী বাইশ মে দুপুর তিনটায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একশ সাতাশতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।
নজরুল পুরস্কার দুই হাজার ছাব্বিশ প্রাপক তালিকা
নাম
পরিচিতি
অবদানের ক্ষেত্র
ফাতেমা তুজ জোহরা
নজরুল সংগীতশিল্পী
নজরুল সংগীত পরিবেশন, প্রচার ও প্রশিক্ষণ
রাশিদুন নবী
গবেষক
কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন গবেষণা
এই স্বীকৃতি নজরুল চর্চার দুই ভিন্ন ধারাকে একত্রে তুলে ধরেছে—একদিকে সংগীত পরিবেশনা ও প্রচার, অন্যদিকে গবেষণা ও সাহিত্য বিশ্লেষণ। এতে করে কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে যাবে বলে সাংস্কৃতিক মহলে আশা করা হচ্ছে।