খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় শেষ। মাঠের লড়াইয়ে টিকে রয়েছে আর মাত্র চারটি দল। বিশ্ব ফুটবলের চার পরাশক্তি এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই জায়গা করে নিয়েছে এবারের সেমিফাইনালে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক ক্লাসিক দ্বৈরথের মঞ্চ তৈরি করেছে। প্রথম সেমিফাইনালে ডালাসের মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও স্পেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে দারুণ ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড। ফাইনালে ওঠার এই মহারণকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি, রণকৌশল ও স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন চার দলের প্রধান তারকারা।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির জন্য এবারের সেমিফাইনাল ক্যারিয়ারের এক অনন্য অধ্যায়। ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি তার দীর্ঘ ও বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাননি। ম্যাচটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মেসি বলেন, “ইংল্যান্ড সবসময়ই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো তাদের মুখোমুখি হওয়াটা আমার জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর।”
আর্জেন্টাইন শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই অন্য খেলোয়াড়দেরও। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে দর্শনীয় এক দূরপাল্লার গোলে দলকে সেমিফাইনালে তোলা হুলিয়ান আলভারেস দারুণ ফর্মে আছেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত গোলের চেয়ে দলের জয়ই তার কাছে মুখ্য, তবে এমন বড় ম্যাচে গোল করে অবদান রাখতে পারলে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়।
এদিকে, ইংল্যান্ডের ডেরায় বইছে ট্রফি জয়ের তীব্র আকুলতা। থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবার আর খালি হাতে ফিরতে চান না। কেইন বেশ জোর দিয়েই বলেন, “ইংল্যান্ড দল গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক ফুটবল খেলছে। তবে আমাদের এই সোনালী প্রজন্মকে স্মরণীয় করতে এখন শেষ ধাপটি পার হতে হবে।” কেইনের এই আত্মবিশ্বাসের বড় জোগানদার তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা এবারের বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্সকে স্বপ্নের মতো উল্লেখ করে জানান, দলের সবাই একসঙ্গে লড়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার হাতছানি ফ্রান্সের সামনে। ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিরোপা না জেতা পর্যন্ত উদযাপনের কোনো সুযোগ নেই। এমবাপ্পের মতে, নিজেদের বিশ্বসেরা প্রমাণ করতে হলে এই সেমিফাইনালে জয়ের বিকল্প নেই। দলের আরেক অন্যতম ভরসা উসমান দেম্বেলে জানান, এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল এবং দলের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমিকা পালন করতে তিনি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, তারুণ্যের শক্তিতে উজ্জীবিত স্পেন ফরাসি বাধা টপকাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও ভয়ের কোনো জায়গা দেখছেন না। ইয়ামাল বলেন, “বিশ্বকাপের সেরা দুটি দলই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে। তবে ফ্রান্সকে হারানোর সব রসদ স্পেনের কাছে রয়েছে।”
স্পেন মাঝমাঠের মূল ভরসা রদ্রি অবশ্য ম্যাচটিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারলে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই তারকাদের এই আত্মবিশ্বাসী যুদ্ধংদেহী মনোভাবই বলে দিচ্ছে, ফাইনালে ওঠার জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বে চার দলই।
মন্তব্য