আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরির অপেক্ষা অবশেষে শেষ করলেন শ্রেয়াস আইয়ার। লক্ষ্ণৌয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অধিনায়কোচিত এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন ভারতের এই ব্যাটার। তাঁর ৪২ বলে করা অপরাজিত শতকে ভর করে ১৭২ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৪.৪ ওভারেই পেরিয়ে গেছে ভারত। হাতে ছিল আরও ৩২ বল। জয় এসেছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে।
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। এর আগে ওয়ানডে সিরিজও ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখল দলটি।
১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ৩.৩ ওভারে মাত্র ৩৫ রানে দুই ওপেনারকে হারায় তারা। এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের গতিপথই বদলে দেন শ্রেয়াস। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন ঈশান কিষান।
ঈশান এক প্রান্ত আগলে রাখলেও মূলত শ্রেয়াসের ব্যাটেই রান উঠতে থাকে ঝড়ের গতিতে। ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। ফিফটির পথে মারেন আটটি চার। এরপর তাঁর ব্যাটিং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
পরের ১৪ বলেই ছয়টি ছক্কা হাঁকান শ্রেয়াস। ম্যাথু ফোর্ডের করা ১৪তম ওভার ছিল বিশেষভাবে বিধ্বংসী। ওই ওভারেই তিনটি ছক্কা মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন ভারতীয় অধিনায়ক।
৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সময় তাঁর ইনিংসটি হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অন্যতম আলোচিত অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ের উদাহরণ। রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের পর ভারতের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে এই সংস্করণে সেঞ্চুরি করলেন শ্রেয়াস। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ৮০ রান।
জয়ের মুহূর্তেও ছিলেন শ্রেয়াসই। রোস্টন চেজের করা ১৬তম ওভারের পরের বলে এক রান নিয়ে ভারতকে জয় এনে দেন তিনি। অপরাজিত ১০০ রানে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল চার ও ছক্কার দারুণ সমন্বয়ে।
অন্যদিকে ঈশান কিষান অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৩৭ রানে। শ্রেয়াস ও ঈশানের মধ্যে গড়ে ওঠে ১৩৭ রানের বড় জুটি। ভারতের দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর এই জুটিই দলকে কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।
শ্রেয়াসের জন্য লক্ষ্ণৌয়ের একানা স্টেডিয়ামও বিশেষ এক ভেন্যু হয়ে উঠেছে। আইপিএল ও জাতীয় দলের হয়ে এই মাঠে টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং মাত্র একবার আউট হয়েছেন। একানায় টানা দুটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন শ্রেয়াস। এই মাঠে তাঁর স্ট্রাইক রেট ২০০.৫৯, যা তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধারকেই তুলে ধরে।
এর আগে টসের পর ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯.১ ওভারে ১৭১ রানে অলআউট হয়। শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও অধিনায়ক শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে তোলে সফরকারীরা। হোপ ৩৭ বলে ৫২ রান করেন। রাদারফোর্ড আরও আক্রমণাত্মক ছিলেন, তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ৫৬ রান।
ভারতের হয়ে অভিষেক হওয়া অফ স্পিনার নমন ধীর বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। ৩১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। তাঁর বোলিংসহ ভারতের আক্রমণের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ১৭১ রানেই থেমে যায়।
কিন্তু সেই সংগ্রহ ভারতের জন্য যথেষ্ট ছিল না। দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও শ্রেয়াসের ব্যাটিং দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে এনে দেয়। মাত্র ৪২ বলে শতক পূর্ণ করে তিনি শুধু নিজের ব্যক্তিগত অপেক্ষাই শেষ করেননি, দলকেও সিরিজে এগিয়ে দিয়েছেন।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি আগামী শুক্রবার রাঁচিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ম্যাচে এমন দাপুটে জয়ের পর ভারত সিরিজের পরের ম্যাচেও আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে।


