গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেলেন স্বামী-স্ত্রী। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মতিনবাজার এলাকায় স্বামী আব্দুল জলিল (৭০) মারা যাওয়ার পর তার দাফন সম্পন্ন হয় বিকেল ৪টার দিকে। এর মাত্র এক ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে মারা যান তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৬০)। স্বামী-স্ত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এই দম্পতির দুজনই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমে অসুস্থ হয়ে পড়েন আমিনা বেগম। তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর একইভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তার স্বামী আব্দুল জলিল। হঠাৎ পরপর দুজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা তাদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
চিকিৎসা নেওয়ার পর আব্দুল জলিলকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় রীতি অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্বামীর দাফন শেষ করে পরিবারের সদস্যরা যখন বাড়িতে ফিরেছেন, তখনও তারা জানতেন না আরও বড় শোক অপেক্ষা করছে। দাফনের প্রায় এক ঘণ্টা পর, বিকেল ৫টার দিকে মারা যান আমিনা বেগম। পরে বাদ মাগরিব তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্বামীর কবরের কাছেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
একই দিনে অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে শোকাহত তাদের সন্তানরা। ছেলে আলম মিয়া বলেন, তার বাবা-মায়ের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল। জীবনের শেষ সময়েও যেন সেই সম্পর্কের এক করুণ প্রতিচ্ছবি দেখা গেল।
আলম মিয়ার ভাষায়, বাবার দাফন শেষ করে বিকেল ৪টার দিকে বাড়িতে ফেরার পর কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই বিকেল ৫টার দিকে মায়ের মৃত্যুর খবর আসে। এক দিনের মধ্যেই বাবা-মা দুজনকে হারানোর ঘটনা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটিকে বিরল ও হৃদয়বিদারক বলে জানিয়েছেন। সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যুর ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। আব্দুল জলিল ও আমিনা বেগম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও শোক নেমে এসেছে।
পরিবারের সদস্যদের কাছে এই দম্পতির দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি এখন আরও গভীর হয়ে উঠেছে। দুজনের অসুস্থতা শুরু হয়েছিল একই দিনে, আর মৃত্যুও হলো একই দিনে—যদিও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। স্বামীকে দাফনের পরপরই স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা এলাকাজুড়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও বিষাদের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনের দীর্ঘ পথ একসঙ্গে পাড়ি দেওয়া এই দম্পতির শেষ বিদায়ও হয়ে রইল পাশাপাশি। তাদের মৃত্যুতে স্বজনেরা যেমন শোকাহত, তেমনি প্রতিবেশীদের মধ্যেও নেমে এসেছে নীরবতা।


