খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখীপুরে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করার অভিযোগে হাসান (২৯) নামের এক পল্লী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। পরে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সখীপুর পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে শিশুটি নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক হাসান কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে তিনি শিশুটির সঙ্গে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থতা ও প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে। একপর্যায়ে সে তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা জানার পর তার মা ও চাচি অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করতে যান। তখন তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিবারের লোকজনের বিরোধ বাধে এবং তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হাসানকে আটক করে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, একজন প্রতিবেশী ও পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়েছিলেন। তবে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এবং এর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সখীপুর থানার ওসি (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, শিশুটির মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পাশাপাশি তার স্বজনদের ওপর হামলার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, শিশুটির নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আইনগত সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর না করে যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।