খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই মে ২০২৫, ২:৪১ এএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পেরেছি, কিন্তু তাদের অর্থব্যবস্থা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। কুমিল্লার অনেক উপজেলার রাজনীতি এখন আওয়ামী লীগের টাকায় চলে— এমনকি বিএনপির রাজনীতিও।”
শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় কুমিল্লায় ‘জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ আহত, শহীদ ও বীর সন্তানদের সম্মানে আয়োজিত জুলাই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত বলেন, “বিএনপির নেতারা আমাদের শত্রু মনে করবেন না। আমরা আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি— এ অঞ্চলের অনেক জায়গায় সব দলের রাজনীতি আওয়ামী লীগের অর্থের কাছে বিকিয়ে গেছে।”
তিনি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে উদ্দেশ করে বলেন, “যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা কোর্টে গেলে জামিন পায়— এর পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তা খোলাসা করুন। আপনি বারবার বলছেন, আপনাকে ভিলেন বানানো হচ্ছে। যদি কেউ বাধা দেয় বা চাপ দেয়, সেটা জাতির সামনে তুলে ধরুন।”
তিনি আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা জামিনে বের হয়ে শহীদ পরিবারের আশপাশে ঘুরছে— এটা যেমন আমাদের ব্যর্থতা, তেমনি আসিফ নজরুল স্যারেরও ব্যর্থতা। জানুয়ারি মাসেই দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ছিল, এখন মে মাস। এখনও সেটি হয়নি।”
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা সংস্কারও চাই, নির্বাচনও চাই— তবে বিচার হবে, সংস্কারও হবে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
মানবিক করিডর ও পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে— মানবিক করিডর ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে তাদের অবস্থান কী। আমরা কোনও পরাশক্তির আধিপত্য চাই না— না ভারত, না পিণ্ডি, না আমেরিকা।”
আওয়ামী লীগের সহযোগী ১৪ দলের বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, কিন্তু হতাশ হচ্ছি। আহতদের পুনর্বাসন হয়নি, বিচার হচ্ছে না, কর্মসংস্থান হয়নি। আমরা আন্দোলনে না নামা পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।”
এ সমাবেশে এনসিপি, বিএনপি, খেলাফতে মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য