মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুতদার ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে নকল ছানা তৈরির অপরাধে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোকে জরিমানাসহ কঠোর বার্তা দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে সাটুরিয়ার বিভিন্ন বাজার, ট্রেডিং পয়েন্ট ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে এই তদারকিমূলক অভিযান পরিচালিত হয়। আভিযানিক দলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, স্থানীয় স্যানিটারি পরিদর্শক এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সূত্র জানায়, সম্প্রতি সাটুরিয়ায় গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির সত্যতা পায় কর্তৃপক্ষ। রান্নার গ্যাসের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও স্থানীয় বাজারে প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল। নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা দোকানে তল্লাশি শুরু করেন অভিযান পরিচালনকারীরা।
অভিযানের একপর্যায়ে এক সতর্ক চাতুর্যের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। এক খুচরা বিক্রেতা দোকানে অল্প কয়েকটি সিলিন্ডার সাজিয়ে কৃত্রিম অভাব দেখাচ্ছিলেন, অথচ নিজ বসতবাড়িতে গোপনে বিশাল গোডাউন গড়ে তুলেছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১২৫টি এলপিজি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। অবৈধ মজুতের দায়ে ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত সিলিন্ডারগুলো কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকা দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
গ্যাস বিক্রিতে অনিয়ম ও মূল্যে কারচুপির অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে মুকলেস এন্টারপ্রাইজের মালিক মুকলেস ও আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক শহিদুলকে ভোক্তা অধিকার আইনের ৪০ ধারায় ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাছরাঙ্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে ৪০ ও ৪৫ ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং আরাধনা ঘোষকে ৪৩ ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিতে সাটুরিয়ার দরগ্রাম এলাকার কয়েকটি ছানা তৈরির কারখানায় সারপ্রাইজ ভিজিট করে ভীতিকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ দেখতে পান কর্মকর্তারা। দেখা যায়, ছানা ঠান্ডা করা ও ধোয়ার জন্য যে পানি ব্যবহার করা হচ্ছিল, তাতে জ্যান্ত ব্যাঙ, ব্যাঙাচি ও মশার লার্ভা কিলবিল করছে। এর ওপর ছানার ওজন ও ঘনত্ব বাড়াতে ভেজাল হিসেবে আটা, ভোজ্যতেল ও ডালডা মেশানো হচ্ছিল। কারখানার মালিকেরা স্বীকার করেছেন, উৎপাদিত এই নোংরা ছানা নিয়মিত ঢাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হতো।
গুরুতর এই অপরাধে দুটি কারখানা মালিককে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কারখানা দুটির উৎপাদন কাজ স্থগিত করে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবেশগত মান উন্নত না করলে প্রতিষ্ঠান দুটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল সাফ জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এই ধরনের তদারকি ও চিরুনি অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। অবৈধ মজুতদারি কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন বরদাশত করা হবে না।


