খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:৩ এএম
পটুয়াখালীর আলিপুর মৎস্য বন্দরে একটি বিরল কালো পোয়া সামুদ্রিক মাছ বাহাত্তর হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছটির ওজন ছিল ৪ কেজি ৫০০ গ্রাম, যা প্রতি কেজি ষোলো হাজার টাকা দরে বিক্রি হলো।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে লেনদেন হয়। সাধারণত এ ধরনের মাছ জেলেদের জালে খুব একটা ধরা পড়ে না। তাই এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় মাছটি দেখতে উৎসুক জনতা বন্দরে ভিড় জমায়।
স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যায়, মাছটি মনিফিসি আড়তে তোলা হলে নিলামের মাধ্যমে ‘ফ্রেশ ফিস কুয়াকাটা’র স্বত্বাধিকারী মুসা সেটি কিনে নেন। তবে মাছটি সামান্য নরম হয়ে যাওয়ার কারণে প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, তিনি মাছটি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করবেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কাছে মাছটি ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামেও পরিচিত। এর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষত মাছটির বায়ু থলি বা এয়ার ব্লাডার চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর দাম অনেক বেশি।
ওয়াল্ড ফিস বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বকতিয়ার উদ্দিন বলেন, কালো পোয়া (Protonibea diacanthus) হলো Sciaenidae পরিবারের একটি দুষ্প্রাপ্য সামুদ্রিক প্রজাতি। এর দৈর্ঘ্য সাধারণত ৫০ থেকে ১৮০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে, তবে কখনো ১.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ওজন ১০ থেকে ২৫ কেজি হলেও কিছু ক্ষেত্রে ৫০ কেজিরও বেশি পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার, মহেশখালী, সেন্ট মার্টিন, পটুয়াখালী ও বরিশাল উপকূলে এই মাছ দেখা যায়। এরা কাদামাটি বা বালুময় তলদেশে বসবাস করে এবং ছোট মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য ক্রাস্টেশিয়ান খেয়ে জীবন ধারণ করে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, এই মাছকে ব্ল্যাক স্পটেড ক্রোকারও বলা হয়। এর এয়ার ব্লাডার আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান, তাই মাছটির দামও বেশি। বাংলাদেশে সচরাচর এটি ধরা পড়ে না, তবে সুন্দরবন এলাকায় কিছুটা পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ২৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের কালো পোয়া ধরা পড়ার রেকর্ড রয়েছে। সাম্প্রতিক ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবেই জেলেরা এখন অধিক মাছ পাচ্ছেন, এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন
মন্তব্য