খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
২০০৩ সালে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ দুটি দশক, তবে সাফের সোনালী ট্রফিটি আর ছোঁয়া হয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ২৩ বছরের সেই দীর্ঘ শিরোপার খরা কাটাতে এবার অলআউট ঝাঁপাতে চান বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। আগামী নভেম্বরে আবারও ঘরের মাঠে বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। আর নিজেদের চেনা আঙিনায় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের অফিসিয়াল লোগো উন্মোচিত হয়েছে। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ঘোষণা করা হয় জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড টেকনোকে। বাফুফের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের নব্য নিয়োগপ্রাপ্ত কোচ টমাস ডুলি, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ এবং তরুণ উইঙ্গার শেখ মোরছালিন।
হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর জাতীয় ফুটবলের মসনদে বসা সাবেক আমেরিকান তারকা টমাস ডুলির জন্য এই সাফ টুর্নামেন্টটি এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এই সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিজের লক্ষ্য নিয়ে বেশ পরিষ্কার। লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডুলি বলেন, তিনি প্রতিটি ম্যাচে জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামেন। প্রতিপক্ষ জার্মানি, ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা হোক বা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের কাছাকাছি কোনো দল—তাঁর কৌশল একটাই, জয় ছিনিয়ে আনা।
২৩ বছর ধরে সাফের শিরোপা না পাওয়ার বিষাদগাথা ভালো করেই জানা আছে এই অভিজ্ঞ কোচের। অতীতের সেই আক্ষেপ মুছে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে। তিনি জানান, পুরো দল যদি টুর্নামেন্টটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খেলে, তবে ট্রফি নিজেদের ঘরে রেখে দেওয়ার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। সাফ জয় করাকে বাংলাদেশ দলের একমাত্র স্বপ্ন উল্লেখ করে ডুলি যোগ করেন, এখন সময় এসেছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার। ঘরের মাঠে দর্শকদের স্টেডিয়ামে এসে গ্যালারি মাতিয়ে দলকে সমর্থন জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।
কোচের সাথে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের তরুণ উদীয়মান ফরোয়ার্ড শেখ মোরছালিনও নিজের আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হয়ে মাঠে স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চায় দল। ঘরের মাঠে যেভাবেই হোক ট্রফি জেতা সম্ভব এবং এই সুযোগটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চান না এই তরুণ তুর্কি।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের প্রহরী তপু বর্মণ মনে করেন, ২০০৩ সালের মতো এবারও দেশের দর্শকেরা মাঠে উপস্থিত থেকে দলকে বাড়তি শক্তি জোগাবেন। নিজেদের সেরাটা দিয়ে মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ডিফেন্ডার হিসেবে নিজের মূল দায়িত্ব রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়ানো হলেও, দলের প্রয়োজনে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে গোল করে জয়ে অবদান রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তপু বর্মণ। সব মিলিয়ে দেশের মাটিতে আসন্ন সাফকে কেন্দ্র করে এক নতুন আশা ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে ফুটবল অঙ্গনে।