চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে নিজ বাসভবন থেকে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়।
নাচোল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কসবা ইউনিয়নের বাইলকাপাড়া এলাকায় আব্দুল কাদেরের নিজ বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশের একটি চৌকস দল। সেখান থেকেই রাত আনুমানিক শেষভাগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকমল চন্দ্র দেবনাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযানটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছে যেন আসামি পালিয়ে যেতে না পারেন।
ওসি সুকমল চন্দ্র দেবনাথ শনিবার সকালে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে থানায় পূর্বে দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাকে এই মামলায় খুঁজছিল। অবশেষে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার দুপুরের দিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ও আইনি ঝামেলা ছিল। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর একটি চাঁদাবাজির মামলায় তিনি জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সে সময় বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। তবে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে অবস্থান করছিলেন।
আব্দুল কাদের নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো থানায় নতুন কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।



