আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী অ্যাডভোকেট তৌফীক নাওয়াজ আর নেই। ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে হাসপাতালটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তৌফীক নাওয়াজ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিলেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন। চিকিৎসাসেবা ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা আপেল খকশি জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভার সংক্রান্ত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত সোমবার তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তৌফীক নাওয়াজের দাফন ও জানাজার স্থান এবং সময়সূচি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু জানান, স্বজনরা আলোচনা করে বুধবার দুপুরের পর জানাজা ও দাফন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ঠিক করবেন।
পেশাগত জীবনে তৌফীক নাওয়াজ ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন খ্যাতিমান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আইন পেশার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছিল তার অবাধ বিচরণ; বিশেষ করে ধ্রুপদি সংগীত চর্চার প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও দক্ষতা ছিল। ২০১৯ সালে তিনি হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সাত বছর তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন এবং স্বাভাবিক চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ২৬ এপ্রিল অসুস্থ তৌফীক নাওয়াজকে হুইল চেয়ারে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে এসেছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। উদ্দেশ্য ছিল ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত স্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো ও সাক্ষাৎ করা। পরবর্তীতে গত ২৭ মে তৌফীক নাওয়াজের গুরুতর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে মা দীপু মনিকে সাত দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানান তাদের মেয়ে তানি দীপাবলী নাওয়াজ। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর ওই আবেদন জমা দেওয়া হলেও তৎকালীন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিকে যাতে জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, সেজন্য আবারও প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীপু মনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, তারা বুধবার সকালেই মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে নতুন করে এই প্যারোল মুক্তির আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দেবেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দীপু মনি শেষবারের মতো স্বামীকে দেখার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

