বার্সেলোনার ইতিহাসে প্রথম ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক হিসেবে নতুন রেকর্ড রাফিনিয়ার

স্প্যানিশ পরাশক্তি এফসি বার্সেলোনার সুদীর্ঘ ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক স্বর্ণালী অধ্যায়। ২০২৬-২৭ নতুন ফুটবল মৌসুমে ক্লাবের মূল বা প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ২৯ বছর বয়সী তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। এর মাধ্যমে ক্যাটালান ক্লাবটির ১২৭ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসে প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে বাহুবন্ধনী পরার ঐতিহাসিক অনন্য গৌরব অর্জন করলেন এই উইঙ্গার।

২০২২ সালের গ্রীষ্মে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিডস ইউনাইটেড থেকে বার্সেলোনায় নোঙর ফেলেছিলেন রাফিনিয়া। শুরু থেকেই নিজের দুর্দান্ত গতি ও গোলের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি। মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমে তার ব্যক্তিত্ব এবং সহখেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষমতা তাকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছে। ডাগআউটে জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

নতুন মৌসুম শুরুর আগেই বার্সেলোনার নেতৃত্বের কাঠামোয় এসেছে বড় ধরনের পুনর্গঠন। গত মৌসুমের প্রধান অধিনায়ক এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন ধারে ডাচ ক্লাব আয়াক্সে পাড়ি জমিয়েছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় অধিনায়ক ও রক্ষণের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ রোনাল্ড আরাউহো ধারে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলে। শীর্ষ দুই অধিনায়ক দল ছাড়ায় নেতৃত্বের প্রধান পদটি ফাঁকা হয়ে যায়। দলটির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম অধিনায়ক নির্বাচিত হন রাফিনিয়া।

প্রথম অধিনায়ক রাফিনিয়ার পর নেতৃত্বের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নাম রয়েছে ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের। পরবর্তী অধিনায়কত্বের ক্রম সাজানো হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবলারদের নিয়ে। তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন পেদ্রি, চতুর্থ স্থানে রয়েছেন তরুণ গাভি এবং পঞ্চম অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন রক্ষণভাগের এরিক গার্সিয়া।

বার্সেলোনায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের পথচলা বেশ পুরানো ও বর্ণাঢ্য। এভারিস্তো দে মাসেদো, রোমারিও, রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোনালদিনহো কিংবা নেইমারের মতো কালজয়ী অনেক ব্রাজিলিয়ান বিশ্বফুটবলকে মাতানো তারকা ক্লাবটির ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। তবে তাদের কেউ কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবের প্রথম বা মূল অধিনায়ক হতে পারেননি। সেই দিক থেকে রাফিনিয়ার এই দায়িত্ব পাওয়া কেবল তার ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বার্সেলোনায় স্প্যানিশ ও লাতিন ফুটবলের মেলবন্ধনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

বার্সেলোনার জার্সিতে রাফিনিয়া এখন পর্যন্ত সাতটি শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন। তার ট্রফি ক্যাবিনেটে রয়েছে তিনটি লা লিগা, একটি কোপা দেল রে এবং তিনটি স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা। ২০২৫ সালে চমৎকার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সুবাদে লা লিগার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার জিতে নেন তিনি। একই মৌসুমে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষ তালিকাতেও নিজের নাম খোদাই করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।

পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলেও রাফিনিয়া নিজেকে বার্সেলোনার সেরা ব্রাজিলিয়ানদের কাতারে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৭৭টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমে তার গোলসংখ্যা ৭৫টি। বার্সার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা ব্রাজিলিয়ানদের তালিকায় রাফিনিয়া এখন চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন। এই তালিকার শীর্ষে আছেন ১৩০ গোল করা কিংবদন্তি রিভালদো। এরপর ১০৫টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন এভারিস্তো দে মাসেদো ও নেইমার। আর ৯৪ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ফুটবলের জাদুকর রোনালদিনহো। নেতৃত্ব পাওয়ার পর রাফিনিয়ার বর্তমান ফর্ম অব্যাহত থাকলে আগের এই রেকর্ডগুলো যে ভাঙতে শুরু করবে, তা নিয়ে সংশয় নেই।

Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর