খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৬, ৭:৫৫ এএম
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী মারা গেছেন। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ভোররাত ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার ছেলে নাফিজ চৌধুরী জানান, সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েকদিন আগে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে এসে তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতিও হচ্ছিল। তবে সোমবার ভোরে হঠাৎ পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যায় এবং চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি বিদায় নেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ সোমবার রাত ১০টায় চট্টগ্রাম শহরের ওআর নিজাম রোডের বিভারলি হিল সোসাইটির বাসভবনের সামনে নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তার নিজ নির্বাচনী এলাকা চন্দনাইশের কাঞ্চনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছিলেন। তৃণমূল রাজনীতিতে তার অবদান ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি টানা তিনবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসন থেকে ২০১৪ সালে দশম, ২০১৮ সালে একাদশ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠিত হলে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর একই বছরের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের অবসান ঘটে। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও তার নির্বাচনী এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য