ঢাকার সাভারে পৃথক তিনটি স্থান থেকে এক নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হঠাৎ করে একদিনের ব্যবধানে এসব মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ও সকালের দিকে হেমায়েতপুরের চান্দুলিয়া, মেইটকা এবং সাভারের লালটেক এলাকায় পৃথক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাভার মডেল থানা-পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলগুলোতে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ভোরে হেমায়েতপুরের চান্দুলিয়া এলাকায়। সেখানে একটি বসতঘরের ভেতরে চালের আড়ার সঙ্গে এক ব্যক্তিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সাভার মডেল থানা-পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শয়নকক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
একই দিন সকালে হেমায়েতপুরের মেইটকা এলাকা থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই নারীর নাম-পরিচয় বা বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ।
অন্যদিকে, সাভারের লালটেক এলাকা থেকে মোহাম্মদ তন্ময় হোসেন নামের এক তরুণের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। নিজস্ব ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। এসব মৃত্যুর নেপথ্যে মানসিক বিষাদ, পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে—তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উদ্ধার করা তিনটি মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনটি মৃত্যুর ঘটনাতেই থানায় পৃথক তিনটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণসহ ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচনে পুলিশ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
সাভার প্রতিনিধি


