খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকায় যৌথ এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত একটি কাভার্ড ভ্যান ও বিপুল পরিমাণ কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিশেষ এই অভিযানটি চালানো হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সরাসরি নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুম বিল্লাহ ও একদল পুলিশ সদস্য ফতুল্লা এবং সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় হানা দেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে পুলিশ ডাকাতদের কব্জা করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আব্দুর রহিম (৪২), মো. ফারুক ওরফে বাবু (৪০), মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), আব্দুল গাফফার (৩৭) এবং আব্দুর রহমান (৩০)। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিভিন্ন পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানে ডাকাতি করে আসছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েকদিন আগে মহাসড়কের একটি পয়েন্ট থেকে চালক-হেলপারকে জিম্মি করে কম্বল বোঝাই এই কাভার্ড ভ্যানটি লুট করা হয়েছিল। লুণ্ঠিত মালামালগুলো তারা কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের আস্তানায় লুকিয়ে রেখেছিল। মঙ্গলবারের অভিযানে সেই কাভার্ড ভ্যানটির পাশাপাশি অক্ষত অবস্থায় ৬১৪টি কম্বল উদ্ধার করা হয়।
তীব্র শীতের মৌসুম বা ত্রাণ বিতরণের কাজে ব্যবহারের জন্য এই কম্বলগুলো ঢাকা থেকে দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। উদ্ধার করা মালামাল এবং গ্রেফতারকৃতদের বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ডাকাতির এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছে কি না বা চক্রটি লুণ্ঠিত পণ্য কার কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য