খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক বাসের চালকসহ অন্তত দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় দুই বাসের নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৮ জুলাই) ভোরের আলো ফোটার আগেই মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার ডুবাঐ বাজার সংলগ্ন আকিজ ভেঞ্চার কোম্পানির কারখানার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তিনি হলেন ইউনিক পরিবহনের বাসচালক তাজুল ইসলাম (৫০)। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়। তিনি ঘটনাস্থলকালেই মারা যান। অন্যজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী দ্রুতগতির বাস ডুবাঐ বাজার এলাকা পার হচ্ছিল। ঠিক ওই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসছিল সিলেটগামী লাকি পরিবহনের আরেকটি যাত্রীবাহী বাস। আকিজ ভেঞ্চার কোম্পানির সামনে পৌঁছালে দুই বাসের মধ্যে প্রচণ্ড গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ইউনিক পরিবহনের বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে, লাকি পরিবহনের সামনের অংশটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ভোরের নিরবতা ভেঙে বিকট শব্দে দুর্ঘটনাটি ঘটলে আশেপাশের এলাকার লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা দ্রুত উদ্ধার কাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এবং শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় খাদে পড়া বাস ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরবর্তীতে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ৭টার পর মহাসড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বিল্লাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন চালক মারা যান। পরবর্তীতে হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বেপরোয়া গতি নাকি অন্য কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।