খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১:৫ পিএম
সিলেট বিভাগে নতুন করে আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে আরও দুইজনের শরীরে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ জনে। ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে যে ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তাদের অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট আটজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে দুইজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া বেসরকারি মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে একজন এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে একজন এবং মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে একজন ভর্তি রয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
চলতি বছরে সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি প্রকোপ দেখা গেছে হবিগঞ্জে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর বাইরে সুনামগঞ্জ জেলায় ১৫ জন, সিলেট জেলায় ১৩ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় আটজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া বিভাগের বাসিন্দা না হলেও সেখানে এসে চিকিৎসা নেওয়া বা শনাক্ত হওয়া অন্য জেলার তিনজন রোগী রয়েছেন। এই তিনজনের বাড়ি যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোণা ও বরিশাল জেলায়।
স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন বাড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণত স্বচ্ছ জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসা নয়, বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। তিনি সবাইকে নিজেদের ঘরবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
মন্তব্য