খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা হাজত থেকে এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে থানার হাজতখানা থেকে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিজের মাদকাসক্ত সন্তানের অবাধ্য আচরণ সইতে না পেরে যে বাবা পুলিশ ডেকে তাকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন, থানা হাজতেই সেই সন্তানের জীবনের এমন করুণ সমাপ্তি ঘটবে তা কেউ ভাবেনি।
নিহত যুবকের নাম রুবেল মিয়া (২২)। তিনি উপজেলার কারাপাশা ইউনিয়নের শহরমূল এলাকার বাসিন্দা রাজা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে। একমাত্র সন্তান হওয়ায় রুবেল পরিবারের সবার অত্যন্ত আদরের ছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কৈশোর পেরোতেই তিনি মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মাদকের টাকার জন্য নিয়মিত পরিবারের লোকজনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
ছেলের এমন ধ্বংসাত্মক আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে ইতিপূর্বে বাবা রাজা হাওলাদার নিজেই বাদী হয়ে রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় তিন মাস জেল খেটে জামিনে বের হওয়ার পরও রুবেলের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আবারও আগের মতো মাদকের মরণনেশায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করেন।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে রুবেল বাড়িতে নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করলে নিরুপায় হয়ে বাবা রাজা হাওলাদার আবারও পুলিশে খবর দেন। বাবার করা আগের একটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় সকাল ৯টার দিকে নিকলী থানা পুলিশ শহরমূল এলাকার বাড়ি থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। রুবেলকে হাজতখানায় আটকে রাখার পর বাবা রাজা হাওলাদার নিজেই তার ছেলের জন্য দুপুরের খাবার ও কিছু কাপড়চোপড় থানায় দিয়ে এসেছিলেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, গ্রেপ্তারের পর রুবেলকে আদালতের পাঠানোর আগ পর্যন্ত থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। সকাল ১০টার দিকে তাকে আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য হাজতখানায় যান। সেখানে গিয়ে তারা রুবেলকে গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশের দাবি, নিজের পরনের শার্ট খুলে সেটিকে ফাঁস বানিয়ে হাজতের লোহার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রুবেল আত্মহত্যা করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
ছেলের জন্য থানায় খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই রাজা হাওলাদার রুবেলের আত্মহত্যার খবর পান। একমাত্র ছেলের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। থানা হাজতে আসামির এই মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য