খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য সামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) পৃথক এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, চা পাতা, চিনি, মহিষ ও পান উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোরাই পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত তিনটি পিকআপ ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে। আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিজিবির ১৯ ব্যাটালিয়ন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্যের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে—এমন গোপন সংবাদ আসে গোয়েন্দাদের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। ব্যাটালিয়নের আওতাধীন জকিগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীবাজার বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) জোয়ানরা সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ২০০ কেজি ভারতীয় জিরা ও দুই হাজার কেজি চা পাতা জব্দ করা হয়। এ সময় চোরাচালানের কাজে লিপ্ত থাকা তিনটি বাংলাদেশি ডিআই পিকআপ ভ্যানও হাতেনাতে আটক করে বিজিবি। কেবল এই জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকেই জব্দ করা পণ্য ও যানবাহনের আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি চার লাখ টাকা। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ১৯ বিজিবির জোয়ানরা একই দিনে সিলেটের জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকাতেও আরেকটি পৃথক অভিযান চালান। এই দুই উপজেলার সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত জৈন্তাপুর বিওপি, সুরাইঘাট বিওপি এবং লোভাছড়া বিওপির আভিযানিক দলগুলো নিজ নিজ এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায়। এই অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭১৮ কেজি ভারতীয় চিনি, একটি মহিষ, ১০২ কেজি চা পাতা এবং ৮৬ বিরা পান জব্দ করা হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্ত থেকে জব্দ করা এই মালামালগুলোর মোট বাজারমূল্য তিন লাখ ৬১ হাজার ৩২৫ টাকা।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্তে গত দুই দিনে চালানো এই পৃথক অভিযানে সর্বমোট এক কোটি সাত লাখ ৬১ হাজার ৩২৫ টাকার চোরাই পণ্য ও পরিবহন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সীমান্ত গলিয়ে আসা এসব অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তাঁরা সর্বদা তৎপর রয়েছেন। সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের চোরাচালান রুখতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও দ্বিগুণ করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী বিজিবির জব্দ করা এসব মালামাল ও যানবাহন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কাজ চলছে।
মন্তব্য