খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভাটিয়ারী সাগর উপকূলে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’ একটি জাহাজের ট্যাঙ্ক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ইয়ার্ডটিতে স্ক্র্যাপ হিসেবে আনা একটি এলএনজি জাহাজের ভেতরের ট্যাঙ্কে দীর্ঘদিন ধরে জমা হয়ে থাকা বিষাক্ত গ্যাস হঠাৎ লিক হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বিষাক্ত বায়ুর সংস্পর্শে এসে জাহাজের কাছাকাছি ও ইয়ার্ডে থাকা মানুষজন দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ইয়ার্ডের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ ছিল। তবে সকাল ৯টার দিকে জাহাজের একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হতে শুরু করে। গ্যাস লিকেজের খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলবশত স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও বহিরাগত লোক তা দেখতে ইয়ার্ডের জাহাজের কাছাকাছি চলে আসেন। এ সময় জমে থাকা বিষাক্ত বাতাসের কবলে পড়ে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। যদিও তিনি নিহত বা আহতদের সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ইয়ার্ড ও জাহাজের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, পুলিশ এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাণহানির পুরো চিত্র স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর দুর্ঘটনাস্থল তদারকি করতে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায় চিহ্নিত করতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ল সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরপরই ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় শতাধিক মানুষ ইয়ার্ডের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং এই সুযোগে কিছু লোক মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য