সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এক তরুণ ও তরুণীর প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রাম এবং প্রতিবেশী হলিমপুর গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে এই সহিংস ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাটিয়াপুর গ্রামের মাহতাব মিয়ার পক্ষের এক তরুণের সঙ্গে হলিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পক্ষের এক তরুণীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রেমঘটিত বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবার ও সামাজিক বলয়ের মধ্যে চরম অসন্তোষ এবং পারিবারিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে বিষয়টির মীমাংসা বা তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মাতব্বর ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যেই সেই মৌখিক বিতর্ক সহিংস রূপ নেয়। খবর পেয়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র যেমন লাঠিসোটা, ঢাল, রামদা ও টেঁটাসহ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো এলাকায় মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের সাধারণ পথচারী ও দোকানদারেরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। সংঘর্ষ চলাকালে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন রক্তাক্ত হন।
সংঘাতের সংবাদ পেয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দিয়ে ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা জানান, আঘাতপ্রাপ্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি চিকিৎসা জোরদার করা হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি হওয়া আহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রেমের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা থেকে এই অপ্রীতিকর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে পুলিশী তৎপরতার মুখে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং এলাকাটি পুলিশের কড়া নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতা এড়াতে মাটিয়াপুর ও হলিমপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে কিংবা তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


