খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বুধবার (৯ জুন) সকালে নোয়াখালী আমলি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ একটি বোরকার দোকানে কর্মরত থাকাকালীন মো. শফিকুল ইসলাম সৈকতের সাথে তার পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সৈকত ওই গৃহবধূর সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। তবে এই প্রক্রিয়াকালীন সৈকত গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে রাখে।
শারীরিক সম্পর্কের গোপন ভিডিও ধারণ করার পর থেকেই সৈকত ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে। একপর্যায়ে ভিডিওটি ভুক্তভোগীর প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠিয়ে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সৈকত। পরবর্তীতে সে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে।
এই মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার পাশের বাসার বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল জুয়েলের সহায়তা কামনা করেন। তবে জুয়েল তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে নিজেই উক্ত আপত্তিকর ভিডিওটি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি ব্যবহার করে জুয়েল নিজেও ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন এবং ভিডিওটি ভুক্তভোগীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছে পাঠান।
ধারাবাহিক এই নির্যাতন, অর্থ আদায় ও সামাজিক মর্যাদাহানির শিকার হয়ে গত ৭ জুন ভুক্তভোগী গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। নিচে গ্রেফতারকৃতদের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হলো:
| আসামির নাম | বয়স | গ্রেফতারের স্থান ও প্রতিষ্ঠানের নাম | অপরাধের ধরন ও ভূমিকা |
| মো. শফিকুল ইসলাম সৈকত | ২৮ বছর | সোনাইমুড়ী বাজার, ‘দুবাই বোরকা হাউস’ | বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, ৩.৭০ লাখ টাকা আদায় ও আরও ৫ লাখ টাকা দাবি। |
| ইব্রাহিম খলিল জুয়েল | ৩৫ বছর | সোনাইমুড়ী উপজেলা, ‘জুয়েল ফার্নিচার’ | সহায়তার নামে ভিডিও সংগ্রহ, পুনরায় ব্ল্যাকমেইল ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে ভিডিও প্রেরণ। |
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার গণমাধ্যমকে জানান যে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় রেফার করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় ইতিমধ্যে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে দুই আসামিকে তাদের নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার সকালে তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই অপরাধ চক্রের সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস ব্যক্ত করেন।