খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুন ২০২৬, ৫:২২ পিএম
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ খাতের উন্নয়ন ও ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৪০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বুধবার (১০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকাস্থ কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক মোট অর্থের একটি অংশ ঋণ ও একটি অংশ অনুদান হিসেবে প্রদান করবে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ২৮৪ দশমিক ৭০ মিলিয়ন বিশেষ অঙ্কন অধিকার (এসডিআর) ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (জিএফএফ) থেকে অতিরিক্ত ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে।
এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর, আধুনিক এবং টেকসই করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিশেষভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, সেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি খাতে সেবার দক্ষতা ও সমতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। এসব অঞ্চলে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মানোন্নয়ন, সেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রথম প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং প্রজেক্ট’ নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা ব্যবস্থার কাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতি ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত অর্থ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবা সম্প্রসারণ এবং জনস্বাস্থ্য খাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সেবার মান উন্নয়নে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য