খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ দলের ডানহাতি গতিময় পেসার নাহিদ রানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কোড অব কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কৃত হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলমান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আচরণবিধি ভাঙার পাশাপাশি শাস্তি হিসেবে এই তরুণ পেসারের নামের পাশে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটিতে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার জশ ইংলিসকে আউট করার পর নাহিদ রানা মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাব প্রদর্শন করেন। উইকেট শিকারের পর তিনি সাজঘরের দিকে রওনা হওয়া ব্যাটারের দিকে সরাসরি ছুটে যান। আইসিসির তদন্ত ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় নাহিদ রানা এমন কিছু শব্দ বা ভাষা ব্যবহার করেছিলেন যা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে উসকে দিতে পারত এবং মাঠের ভেতরের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
তার এই আচরণকে ক্রিকেটের সংহতি ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর ফলে নাহিদ রানার বিরুদ্ধে আইসিসির খেলোয়াড় ও খেলোয়াড় সহায়তাকারী কর্মীদের আচরণবিধির ২.৫ ধারা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। আইসিসির আচরণবিধির এই ধারাটিতে মূলত কোনো ব্যাটার আউট হওয়ার পর তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো ধরনের উসকানিমূলক, অপমানজনক, অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার বা অঙ্গভঙ্গি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা মাঠের ভেতর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।
ম্যাচ চলাকালীন নাহিদ রানার এই আগ্রাসী আচরণটি মাঠের আম্পায়ারদের নজর এড়ায়নি। মাঠের দায়িত্বে থাকা অন-ফিল্ড আম্পায়ার অ্যালেক্স ওয়ার্ফ ও গাজী সোহেল, তৃতীয় আম্পায়ার আহসান রাজা এবং চতুর্থ আম্পায়ার মোরশেদ আলী খান যৌথভাবে ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাটের কাছে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি উত্থাপন করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যাচ রেফারি প্রকাশ ভাট নাহিদ রানার জন্য একটি নির্দিষ্ট শাস্তি প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশের এই পেসার মাঠের আম্পায়ারদের আনা অভিযোগ এবং ম্যাচ রেফারির প্রস্তাবিত শাস্তি পুরোপুরিভাবে স্বীকার করে নেন। তিনি নিজের ভুল মেনে নেওয়ার কারণে এই ঘটনার জন্য আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী আর কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি এবং বিষয়টি সেখানেই মীমাংসা হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইসিসির একটি সুনির্দিষ্ট ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা রয়েছে। আইসিসির রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৪ মাসের (দুই বছর) চক্রের মধ্যে এটি নাহিদ রানার দ্বিতীয়বারের মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। প্রথম ওয়ানডের এই ঘটনার পর নতুন করে আরও একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হওয়ায় বর্তমানে তার ঝুলিতে মোট ডিমেরিট পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে।
আইসিসির বিদ্যমান নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ২৪ মাসের একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যে চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট লাভ করেন, তবে সেই পয়েন্টগুলো সরাসরি সাসপেনশন পয়েন্ট বা ম্যাচ নিষেধাজ্ঞায় রূপান্তরিত হয়। নিয়মানুযায়ী, দুটি সাসপেনশন পয়েন্ট জমা হলে একজন খেলোয়াড়কে একটি টেস্ট ম্যাচ অথবা দুটি ওয়ানডে ম্যাচ কিংবা দুটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।
বর্তমান সমীকরণ বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, নাহিদ রানার বর্তমান ডিমেরিট পয়েন্ট সংখ্যা দুই হওয়ায় তিনি এই মুহূর্তে সরাসরি ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে নেই। তবে আইসিসির নিয়ম মেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অংশগ্রহণ নিয়মিত রাখতে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে তাকে মাঠের আচরণ ও শৃঙ্খলার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ও সংযত থাকতে হবে।