খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল হিটলারের আত্মহত্যার পর তার বিপুল সম্পত্তির গন্তব্য দীর্ঘদিন একটি রহস্যের আড়ালে ছিল। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের তদন্তে জানা গেছে, হিটলারের মৃত্যুর পর তার কোনো সরাসরি উত্তরাধিকারী ছিলেন না, বরং সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিটলারের মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিগত সচিব মার্টিন বোরম্যানের প্রেস সেক্রেটারি হাইনজ লরেঞ্জের কাছ থেকে একটি উইলনামা উদ্ধার করা হয়।
যৌথ গোয়েন্দা কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রহরীরা লরেঞ্জকে আটক করার সময় তার কাঁধে হাত রাখার সঙ্গে সঙ্গে তার কাপড়ের ভেতর লুকানো কিছু নথি ধরা পড়ে। সেসব নথি ছিল মার্টিন বোরম্যানের নির্দেশে বার্লিন থেকে পাচার করার জন্য লরেঞ্জের হাতে দেওয়া।
২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে রথম্যান জানান, তাকে এবং তার চার সহকর্মীকে এই নথি অত্যন্ত গোপনে অনুবাদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয়, পাঁচজন অনুবাদকই ছিলেন ইহুদি। ইহুদিদের নিশ্চিহ্ন করতে চাওয়া এক ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা ও পরিকল্পনা পড়া তাদের জন্য এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা ছিল।
১৯৪৫ সালের ২৯ এপ্রিল ভোর ৪টায় হিটলার তার রাজনৈতিক উইলের পাশাপাশি একটি আলাদা কাগজে স্বাক্ষর করেন। এতে তিনি তার জীবন, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ সরকারের কাঠামোর কথা উল্লেখ করেছেন। নথিতে ইহুদিদের প্রতি তার ঘৃণা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
উইলে সম্পদের উল্লেখ খুব সীমিত ছিল। হিটলার লিখেছিলেন:
‘আমার যা কিছু আছে এবং যদি এর কোনো মূল্য থাকে, তবে সব দলের কাছে যাবে। যদি দল আর না থাকে তবে সরকারের কাছে যাবে। আর যদি সরকারও ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আমার সিদ্ধান্তের কোনো প্রয়োজন নেই।’
চিত্রকর্ম সংগ্রহ নিয়েও তিনি লিখেছিলেন—এগুলো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়, বরং জন্মশহর লিনৎসে একটি গ্যালারির জন্য সংরক্ষিত। জনসমক্ষে তিনি নিজেকে মিতব্যয়ী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ছিল কেবল একটি আবরণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ভিয়েনায় দারিদ্র্য ও কষ্টের গল্প শোনালেও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পর্যন্ত তিনি ইউরোপের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন।
১৯৪৫ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত, মৃত্যুর মাত্র ছয় দিন আগে, হিটলারের ধনসম্পদ তাকে ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির স্থান দিয়েছিল। গবেষকরা অনুমান করেছেন, ২০০৩ সালের ইউরো অনুযায়ী তার সম্পদ ছিল প্রায় ১.৩৫ বিলিয়ন থেকে ৪৩.৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত। ডলার বা পাউন্ডে হিসাব করলে পরিমাণ আরও বেশি হতো। তবে তার সম্পদের সঠিক হিসাব জানা সব সময়ই কঠিন ছিল, কারণ নথিপত্রের অভাব, গোপন অ্যাকাউন্ট এবং অদৃশ্য সম্পদ। পরবর্তীতে মার্কিন গোয়েন্দারা তার নামে কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান, যেখানে শুধুমাত্র অর্থের পরিমাণই ছিল প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।
সাম্প্রতিক সময়ে সুইজারল্যান্ডে কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের খোঁজ মেলে, যেগুলো হিটলারের বলে ধারণা করা হয়। এতে পরিষ্কার হয়, হিটলারের আর্থিক অবস্থা আজও রহস্যের মধ্যে ঘেরা।
খবরওয়ালা/শরিফ