কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ: 19শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ইজারাকৃত প্রায় দেড় লাখ ঘনমিটার বালু লুটের অভিযোগ উঠেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা মৌজায় এ বালু লুটের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ইজারাকৃত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক রাকিবুল ইসলাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ১৩৪।
থানা সূত্র ও জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৩ জুন গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় কয়া ও রায়ডাঙ্গা মৌজায় ৬ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার বালু বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে পাউবো। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পাঁচ কোটি ১৭ লাখ টাকায় ইজারা পান কয়ার মেসার্স প্রিয়াংকা ব্রিকস। শর্ত অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়ে তারা বালু বিক্রির কাজ শুরু করেন।
কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় গত ১২ সেপ্টেম্বর বালু বিক্রি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাদের যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিলে প্রভাবশালীরা সেখানে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন।
সূত্র জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ ঘনমিটার বালু লুট করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা ঈদগাহ, রায়ভাগা গোরস্থান ও বিভিন্ন স্থানে ভরাটের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করেছেন।
শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, রায়ডাঙ্গা গোরস্থানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীতে দুইটি অবৈধ ড্রেজার বসানো হয়েছে। পাইপের মাধ্যমে বালু ফেলা হচ্ছে সৌদি প্রবাসী সাইদুল ইসলামের আমবাগানে। ইতিমধ্যে ঈদগাহ মাঠও ভরাট করা হয়েছে।
স্থানীয় হাসেম আলী নামে এক ব্যক্তি জানান, মাসখানেক ধরে তিনি নদী থেকে বালু তুলছেন। প্রথমে ঈদগাহ ও গোরস্থানে দিয়েছেন, এখন সাইদুলের বাগানে দিচ্ছেন। তার দাবি, তিনি এক মাসে প্রায় ২৫ হাজার ঘনফুট বালু বিক্রি করেছেন।
কয়া ইউনিয়নের বিএনপির সহসভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা এতদিন বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করেছি। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে বালু তোলা হচ্ছে।’
ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রভাবশালীরা শুরুতে মানববন্ধন করে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে তারাই আবার বালু লুট করে বিক্রি করছে। এতদিনে প্রায় দেড় লাখ ঘনমিটার বালু লুট হয়েছে। বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’ তবে তিনি কোনো প্রভাবশালীর নাম প্রকাশ করেননি।
কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ঘটনায় লিখিত জিডি হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘পাউবো ইজারা দিয়েছে। বালু লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
খবরওয়ালা/এন