খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত এক গাড়ির চাপায় রুবেল মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে পার্কিং করে রাখা ‘অসীম পরিবহন’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাসের ভেতর থেকে নিহতের মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সোনারপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত মোন্নাফ সোনারের ছেলে। রুবেল মিয়া পেশাগত জীবনে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের কর্মী বা স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে রিজার্ভ বাসে করে সুন্দরগঞ্জ এলাকায় এসেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল মিয়া যে বাসের স্টাফ ছিলেন, সেই বাসটি ঈদুল আজহার বিশেষ ট্রিপ বা রিজার্ভ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৌঁছায়। রবিবার গভীর রাতে রুবেল মিয়া যখন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সংলগ্ন প্রধান সড়ক পার হচ্ছিলেন কিংবা সড়কে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখন অত্যন্ত দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাঁকে সজোরে চাপা দিয়ে চলে যায়। অজ্ঞাত ওই যানবাহনের তীব্র ধাক্কা ও চাপায় রুবেল মিয়া গুরুতর আঘাত পান এবং এর ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনাটি ঘটার পর গভীর রাতে রুবেল মিয়ার বাসের সহকর্মীরা তাঁকে গুরুতর ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হন। রুবেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি জটিলতা বা অন্য কোনো আশঙ্কায় সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেননি। বরং তাঁরা মরদেহটি উদ্ধার করে সেখান থেকে নিয়ে আসেন এবং ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা অসীম পরিবহনের বাসের ভেতরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দেন।
সোমবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে রাখা অসীম পরিবহনের ওই বাসের ভেতরে কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবরটি জানতে পারেন। বাসের ভেতরে মরদেহ পাওয়ার এই চাঞ্চল্যকর খবরটি খুব দ্রুত তারাপুর ইউনিয়নসহ পুরো সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র কৌতুহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকার শত শত উৎসুক জনতা বাসের ভেতরে থাকা মরদেহটি একনজর দেখার জন্য মাদরাসা মাঠে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা বিষয়টি সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনের মাধ্যমে অবহিত করেন। বাসের ভেতর অজ্ঞাত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া মাত্রই সুন্দরগঞ্জ থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাসের ভেতর থেকে কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় থাকা রুবেল মিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর থানায় নিয়ে যায়।
এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ও মরদেহ উদ্ধারের সার্বিক বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানল্লাহ গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ওই যুবকের মৃত্যু সম্পূর্ণভাবে একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণেই ঘটেছে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে কাজ করে ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে রাখা বাস থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরও উল্লেখ করেন যে, আইনগত আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে উদ্ধারকৃত মরদেহটি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের প্রচলিত সড়ক পরিবহন আইনে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রাপ্তি এবং আইনি সব প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পর নিহত রুবেল মিয়ার মরদেহটি কুড়িগ্রামের উলিপুরে অবস্থানরত তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে যথাযথ মর্যাদায় হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।