বাংলাদেশে শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী, মার্কিন ডলার ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় কেনা এবং ১২৩ টাকা দামে বিক্রির তথ্য দেওয়া হয়েছে। একই তালিকায় ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েনের বিনিময় হারও উল্লেখ রয়েছে।
প্রকাশিত হার অনুযায়ী, ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৬৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৯০ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে কেনার হার ১৩৮ টাকা ২৪ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৩৮ টাকা ৪২ পয়সা। অন্যদিকে, ভারতীয় রুপির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য উভয়ই ১ টাকা ২৮ পয়সা দেখানো হয়েছে।
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সরবরাহ করা তালিকায় আটটি বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য নিচে তুলে ধরা হলো।
| মুদ্রার নাম | কেনার হার (টাকা) | বিক্রির হার (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.৮৫ | ১২৩.০০ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬২.৬৭ | ১৬২.৯০ |
| ইউরো | ১৩৮.২৪ | ১৩৮.৪২ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৮ | ১.২৮ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৫.৪২ | ৮৫.৫৭ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৫.৯৮ | ৯৬.১৮ |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৩২ | ১৮.৩৪ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ | ০.৭৮ |
দ্রষ্টব্য: তালিকায় উল্লেখিত হারগুলো সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি যাচাই করা হালনাগাদ হার কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ব্যাংক, অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী প্রকৃত বিনিময়মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
কেন মুদ্রার বিনিময় হার জানা জরুরি?
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ, বিদেশে পড়াশোনার খরচ, চিকিৎসা ব্যয়, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এসব হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যাঁরা বিদেশ থেকে অর্থ পাঠান বা গ্রহণ করেন, তাঁদের জন্য ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য বোঝা জরুরি। একইভাবে, বিদেশে ভ্রমণ কিংবা শিক্ষার ব্যয় মেটাতে যাঁদের বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে হয়, তাঁদেরও লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্যকর বিনিময় হার জেনে নেওয়া উচিত।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—কোনো মুদ্রার ক্রয়মূল্য বলতে সাধারণত যে দামে ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে সেই মুদ্রা কেনে, তা বোঝায়। আর বিক্রয়মূল্য হলো যে দামে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে। ফলে একই মুদ্রার ক্ষেত্রে কেনা ও বেচার হার আলাদা হতে পারে।
লেনদেনের আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন
বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার ক্ষেত্রে শুধু প্রকাশিত বিনিময় হার দেখলেই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কার্যকর হার, প্রযোজ্য কমিশন এবং অন্যান্য চার্জ সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। নগদ বৈদেশিক মুদ্রা, কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন এবং ব্যাংক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হারও এক নাও হতে পারে।
বিশেষ করে ডলার, পাউন্ড ও ইউরোর মতো বহুল ব্যবহৃত মুদ্রার ক্ষেত্রে সামান্য হারের পার্থক্যও বড় অঙ্কের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অর্থ পাঠানো, মুদ্রা পরিবর্তন কিংবা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করার আগে লেনদেনের সময়কার সর্বশেষ হার যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ।
১০ অক্টোবরের এই তালিকা বৈদেশিক মুদ্রার তুলনামূলক মূল্য সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে প্রকৃত লেনদেনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চূড়ান্ত হার নিশ্চিত করা উচিত।


