দক্ষিণ আফ্রিকার গেবেখায় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই অনন্য অর্জন গড়েন ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক। দিনের প্রথম সেশনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার উইয়ান মুল্ডারকে আউট করে ক্যারিয়ারের ৪৫০তম টেস্ট উইকেট তুলে নেন তিনি। এই একটি উইকেটই তাঁকে বাঁহাতি বোলারদের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
টেস্ট ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে এর আগে কেউ ৪৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৪১৪ উইকেট নিয়ে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের শিকার ৪৩৩ উইকেট। তাঁদের ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন স্টার্ক।
তবে স্টার্কের সাফল্য শুধু উইকেটসংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। টেস্টে দ্রুততম সময়ে ৪৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে অস্ট্রেলীয় পেসারের প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ২০ হাজার ৫৭৭ বল। অথচ ম্যাকগ্রাকে একইসংখ্যক উইকেট নিতে করতে হয়েছিল ২৩ হাজার ৪৭৪ বল। অর্থাৎ, কিংবদন্তি এই পেসারের চেয়ে ২ হাজার ৮৯৭ বল কম করেই রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন স্টার্ক।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসেও ৪৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা বোলারের সংখ্যা হাতে গোনা। স্টার্কের আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও নাথান লায়ন। এবার তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হলো স্টার্কের নাম। অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বোলার হিসেবে টেস্টে ৪৫০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করলেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গতি, সুইং এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার সামর্থ্য দিয়ে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন স্টার্ক। বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার হিসেবে তাঁর আক্রমণাত্মক বোলিং অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি ও দীর্ঘ ফরম্যাটের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলে ধারাবাহিকভাবে উইকেট নেওয়ার সক্ষমতাই তাঁকে এই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।
স্টার্কের এই অর্জন তাই কেবল ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, টেস্ট ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের দীর্ঘ ইতিহাসেও একটি স্মরণীয় ঘটনা। ওয়াসিম আকরাম ও রঙ্গনা হেরাথের মতো কিংবদন্তিরা যে সীমা অতিক্রম করতে পারেননি, সেই সীমা পেরিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলীয় পেসার। তাঁর সামনে এখন সুযোগ রয়েছে উইকেটসংখ্যা আরও বাড়িয়ে এই রেকর্ডকে দীর্ঘদিন নিজের দখলে রাখার।


