খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ২:৩৮ পিএম
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গোপনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং খিচুড়ি রান্নার অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুচিয়ামোড়া বাজারসংলগ্ন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা সহসভাপতি সোহেল রানা পবন এবং তার ভাই রুবেল মাহমুদ রতন। রুবেল মাহমুদ রতন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল রানা পবন ও রুবেল মাহমুদ রতন দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁরা দলীয় নেতাকর্মীদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ইউনিয়ন পরিষদের পাশের এলাকায় তাঁদের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন চলছিল বলে পুলিশের দাবি।
পরে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ও কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে পবন ও তাঁর ভাই রতনের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খিচুড়ি রান্না করছিলেন। সেখানে তাঁরা সংগঠিত হচ্ছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর ভেড়ামারা থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার দুজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁদের সংগঠিত হওয়ার খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।
১৫ আগস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ভেড়ামারায় স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে কোনো পক্ষ যাতে গোপনে সংগঠিত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রাখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর দুই ভাইকে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
মন্তব্য