খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের রূপরেখা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রাস্তায় চলাচলকারী মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক মোটরযানে (ইভি) রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন-৩৩-এর সরকারি দলের সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন সময়ের দাবি। সেতুমন্ত্রী বলেন, যানবাহন থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থাৎ পেট্রোল, ডিজেল বা অকটেনচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জলবায়ু চুক্তি বা ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান’ (এনডিসি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহন খাত থেকে নিঃশর্তভাবে ৩.৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। আর সেই অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবেই এই ৩০ শতাংশ যানবাহনকে বিদ্যুতে চালিত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ইলেকট্রিক মোটরযানের নিবন্ধন ও সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবেশ দূষণ রোধ ও জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস শুল্কমুক্ত সুবিধায় এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।
সংসদ অধিবেশনে শুধু গণপরিবহন নয়, টোল ও রেল যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। অনেক সংসদ সদস্যই নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্থানীয় বিভিন্ন সেতুর টোল মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, টোল আদায় সরাসরি একটি রাজস্বসংক্রান্ত বিষয়, যা সম্পূর্ণভাবে অর্থ বিভাগের আওতাভুক্ত। তাই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় চাইলেই একক সিদ্ধান্তে কোনো সেতুর টোল প্রত্যাহার করতে পারে না। তবে ছোট সেতুর ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নীতিগত ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু কোনো একক সুপারিশের ভিত্তিতে টোল বন্ধ করার আইনি সুযোগ নেই বললেই চলে।
এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ বা যাত্রাবিরতি বাড়ানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, রেলের নির্দিষ্ট পরিচালন নীতিমালা রয়েছে। যত্রতত্র সব স্টেশনে যদি দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেন থামানো হয়, তবে ট্রেনের গতি কমে যাবে এবং দ্রুত যাতায়াতের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই নীতিমালার বাইরে গিয়ে স্টপেজ বাড়ানো সম্ভব নয়।