খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ব্যক্তিগত বীমা পরামর্শের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, জটিল ঝুঁকির এক্সপোজার এবং ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের ব্যাপক প্রসারের কারণে বীমা ব্রোকার ও এজেন্ট বাজারের পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্লোবাল মার্কেট ইনসাইটস-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৭৬.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বৈশ্বিক শিল্পটি ২০২৬ সালে আনুমানিক ২৯৯.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। সেখান থেকে বার্ষিক ৯.১% চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই বাজারের মোট আকার ৬৫৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বীমা ব্যবস্থাপনায় ক্রমবর্ধমান জটিলতা এবং পরিবর্তনশীল আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ব্রোকার ও এজেন্টরা এখন সাধারণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পেরিয়ে আরও বিস্তৃত পরামর্শদাতার ভূমিকা গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে সাইবার ইন্স্যুরেন্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং কমার্শিয়াল লায়াবিলিটির মতো খাতগুলোতে কাস্টমাইজড পলিসি এবং ধারাবাহিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শের চাহিদা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগামী এক দশকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বীমা ব্রোকার ও এজেন্ট বাজারের সবচেয়ে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হবে। চীন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বীমা সচেতনতা বৃদ্ধি, মধ্যবিত্ত জনসংখ্যার দ্রুত সম্প্রসারণ, দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং দূরদর্শী নিয়ন্ত্রক সংস্কার এই অঞ্চলের বাজারকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দেবে।
অন্যদিকে, উচ্চ বীমা অনুপ্রবেশ হার (Penetration Rate), সুপ্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামো এবং শক্তিশালী পরামর্শ-ভিত্তিক মডেলের ওপর ভর করে উত্তর আমেরিকা বিশ্ব বাজারে সবচেয়ে বড় অঞ্চলের অবস্থান ধরে রেখেছে। এই অঞ্চলের গ্রাহকরা দীর্ঘকাল ধরে পেশাদার ব্রোকারদের মাধ্যমে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় অভ্যস্ত।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, ডেটা সুরক্ষা (Data Protection) এবং কঠোর পরামর্শমূলক প্রয়োজনীয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী বীমা সংস্থাগুলোর মূল ফোকাস এখন কমপ্লায়েন্স বা আইনি পরিপালনের দিকে। আইনি ও সুনামগত ঝুঁকি এড়াতে ব্রোকাররা কমপ্লায়েন্স সিস্টেম আধুনিকায়ন, অভ্যন্তরীণ অডিট প্রক্রিয়া এবং কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য তাদের ব্যয় ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
২০২৫ সালের বাজার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব বাজারে ৫.২৭% শেয়ার নিয়ে এককভাবে সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিল মার্শ ম্যাকলেনান (Marsh McLennan)। বৈশ্বিক এই খাতের শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানি—অ্যালিয়ানজ (Allianz), এওন (Aon), আক্সা (AXA), ব্রাউন অ্যান্ড ব্রাউন (Brown & Brown) এবং মার্শ ম্যাকলেনান—সম্মিলিতভাবে পুরো বৈশ্বিক বাজারের ১৯.৯৭% শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছে।
বাকি ৮০ শতাংশের বেশি বাজার জুড়েই রয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও মাঝারি সারির ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, যারা স্থানীয় বাজারে প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগতকৃত সেবা দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনগুলোতে এই শিল্পের করপোরেট কাঠামোতে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।