হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। অধিবেশনের শুরুতে নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর পর্বে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বিমানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলে বলেন, আগের সরকার টার্মিনাল চালুর নামে মূলত একটি ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিল, অথচ ভেতরে পরিচালনগত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই তখন বাকি থেকে গিয়েছিল। ফলে অবকাঠামো প্রস্তুত দেখালেও বাস্তবিক অর্থে এটি বিমান চলাচলের উপযোগী ছিল না। বিমানমন্ত্রী জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) আগের বকেয়াসহ মোট ৯০২ কোটি টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হলে তৃতীয় টার্মিনালটির সার্বিক কাজ শেষ করে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনা সম্পর্কে মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় এই বিপুল সম্পদ ব্যবহার না করে ফেলে রাখা দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর। যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করা গেলে বিমানবন্দরে যাত্রী ধারণক্ষমতা ও পরিষেবা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে সেখান থেকে যে বাড়তি রাজস্ব আয় হবে, তা দিয়েই প্রকল্পের জন্য নেওয়া জাইকার (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা) ঋণ পরিশোধ করা সহজ হবে। এ কারণে বর্তমান সরকার এটিকে দ্রুত কার্যক্ষম করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী জানান, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সার্বিক প্রস্তুতি বেশ জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দর হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ‘অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ (ওআরএটি)-এর প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি ৪৩ শতাংশ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিমান কেনাকাটা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংসদকে অবহিত করেন, বিগত সরকারের মেয়াদে বিমান বাংলাদেশ লাইন্সের জন্য মোট ৯টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছিল। এতগুলো আকাশযান ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়ম ঘটেছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।



