দেশে হাম পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এই পাঁচজনসহ চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২০ জনের শরীরে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৯৫২ জন। অর্থাৎ, মোট মৃত্যুর বড় অংশই উপসর্গযুক্ত সন্দেহজনক বা সম্ভাব্য হাম রোগীদের মধ্যে ঘটেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৬ জন। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ২০ হাজার ৪৭৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
হামজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালেও উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৬ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫ জন।
এই হিসাব থেকে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর ধারাবাহিকতা দেশে হাম পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিকটি তুলে ধরছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে হাম পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করে আসছে। এসব প্রতিবেদনে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের পাশাপাশি সন্দেহজনক রোগী, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য আলাদাভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নিশ্চিত এবং সন্দেহজনক—এই দুই ধরনের তথ্যের পার্থক্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২০ জনের হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার তথ্য এসেছে। একই সময়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজারে পৌঁছেছে এবং হাসপাতালগুলোতে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। হাম নিশ্চিত হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেশে চলমান হাম পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


