৮০ বছর ধরে একান্নবর্তী পরিবার টিকে আছে

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বিনন্দপুর গ্রামে একটি বিরল একান্নবর্তী পরিবার প্রায় আট দশক ধরে টিকে আছে। একসময় বাংলাদেশে একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যা প্রচুর হলেও ধীরে ধীরে পরিবারগুলো ছোট হয়ে গেছে। তবে ভীম রুদ্রপালের বংশধররা এ ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৫০।

পরিবারের একান্নে থাকার ঐতিহ্য শুরু করেছিলেন চা-শ্রমিক ভীম রুদ্রপাল। তাঁর জন্মস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া। ব্রিটিশ শাসনকালে জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারের সঙ্গে পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নে স্থায়ী হন। স্থানীয় চা-বাগানে শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি তিনি জমি ক্রয় করে স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলেন। ভীমের দুই ছেলে মুরারি ও কেশব রুদ্রপাল তিন প্রজন্ম ধরে পরিবারকে একত্র রেখেছেন।

পরিবারের সদস্যদের জীবনধারা এবং সম্পদের বিবরণ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

পরিবার/সদস্য বিবরণ বর্তমান অবস্থা
ভীম রুদ্রপাল পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মৃত
মুরারি রুদ্রপাল ভীমের বড় ছেলে, তিন বিয়ে, দুই স্ত্রী মৃত ৫ ছেলে, ২ মেয়ে; সকলে পরিবারের সঙ্গে থাকে
কেশব রুদ্রপাল ভীমের ছোট ছেলে, দুটি বিয়ে, দুই স্ত্রী মৃত ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে; সকলে পরিবারের সঙ্গে থাকে
পলাশ রুদ্রপাল মুরারির মেজ ছেলে, পরিবারের প্রধান অভিভাবক ৬০ বছর বয়স, সংসারের দেখভাল করেন
শোভা রুদ্রপাল প্রাণী চিকিৎসক, পলাশের বড় ভাই বিদেশে এবং গ্রামে সক্রিয়
সম্পত্তি মোট জমি ১০০ বিঘা, বাগান, মাছের খামার, গবাদিপশু
পরিবারের সদস্য মোট সংখ্যা ৫০ জন

পরিবারের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী। এক হাঁড়িতে রান্না হয়, সবাই মিলে খাবার খান। বাড়িতে চারটি টিনশেড বসতঘর, বড় উঠান, এবং মাটির দেয়াল ও শণের ছাউনির রান্নাঘর আছে। ভীম রুদ্রপালের বংশধরেরা বছরের আউশ ও আমন ধান আবাদ করে ৩০০–৪০০ মণ ধান পান। মাছ, সবজি ও ফলমূলের চাষের মাধ্যমে পরিবারের চাহিদা পুরোপুরি মেটানো হয় এবং অতিরিক্ত উৎপাদন বিক্রি করা হয়।

পরিবারের ছোটরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা শেখে। বড়রা মিলেমিশে থাকায় সবাই শক্তি ও সাহস ধরে রাখে। পরিবারের প্রবীণ সদস্য সত্তরোর্ধ্ব সোহাগী রুদ্রপাল বলেন, “ছেলে, ছেলেবউ, নাতি-নাতনিরা নিয়ে ভালই আছি। আমি আরও কয়দিন বাঁচি, সবাই যেন এইভাবে মিলেমিশে থাকে।”

স্থানীয় দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক রঞ্জন পাল মনে করেন, এই পরিবারটি স্থানীয় সমাজে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম জানান, এ ধরনের একান্নবর্তী পরিবার আশপাশে আর নেই এবং এটি সকলের গর্বের বিষয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।