যশোরের অভয়নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় আবারও ঝরলো তাজা তিনটি প্রাণ। মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কে ঘটা দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পায়রাহাট ইউনাইটেড কলেজের এক এইচএসসি শিক্ষার্থী এবং দুই ভ্যানযাত্রী নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই ঘটনাগুলোতে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গভীর রাতে যশোর-খুলনা মহাসড়কের প্রেমবাগ উড়োতলা এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। পায়রাহাট ইউনাইটেড কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল আপন (২১) রাতে বন্ধু আলামিনকে (৩০) নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি মহাসড়কে থাকা একটি চলন্ত ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ধাক্কার তীব্রতায় তারা দুজনই মহাসড়কে ছিটকে পড়েন। পথচারী ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তরুণ আপনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আপন অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে।
এই ঘটনায় গুরুতর আহত আলামিনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানাস্তর করা হয়।
প্রথম দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নওয়াপাড়া ভৈরব সেতুসংলগ্ন এলাকায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে একটি দ্রুতগামী গণপরিবহন যাত্রীবাহী ভ্যানকে পেছন থেকে মারাত্মক ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় ভ্যানটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা দুই যাত্রী সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে মারাত্মক আঘাত পান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দুই ভ্যানযাত্রী হলেন—অভয়নগর উপজেলার দেয়াপাড়া গ্রামের মঈন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুস সমাদ বিশ্বাস (৫০) এবং একই গ্রামের বাসিন্দা হায়দার আলীর ছেলে আব্দুল ওহাব (৫৫)। সকালে পেশাগত কাজে ও জরুরি প্রয়োজনে তারা ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন।
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সবুজ বিপ্লব জানান, পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনার পর চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আর গুরুতর জখম অবস্থায় আসা অপর রোগীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গভীর রাতের ঘটনায় মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে সকালে পরিবহন দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুটি পৃথক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।



