খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের বড় আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে দেশের অন্তত নয়টি জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে এসব এলাকায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ পূর্বাভাসে এই ঝড়ের আশঙ্কার কথা জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাষ্ট্রীয় এই আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের যে নয়টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, সেগুলো হলো—ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট। মূলত দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতেই এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। হঠাৎ বাতাসে এই গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নদী উত্তাল হয়ে উঠতে পারে, যা যেকোনো সময় নৌযান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কতাস্বরূপ ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, যাতে ছোট ছোট নৌযানগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পারে।
সাধারণত এই ধরনের বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হলে ছোট ও মাঝারি আকারের যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোট এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য চলাচলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। বিশেষ করে পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার বেগ বৃদ্ধি পেলে তা সাধারণ নৌযানের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং নৌপথের সাধারণ যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আবহাওয়া বিভাগ থেকে এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীমাতৃক এই দেশে হঠাৎ তৈরি হওয়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযান চালকদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং নদীর অবস্থা বুঝে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে নোঙর করার নির্দেশনাও রয়েছে।