ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় যুবলীগের আহ্বায়ক ইয়াছিন শরীফ মজুমদার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম মজুমদারের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার পূর্ব অনন্তপুর ছয়ঘরিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত জানাজায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ইয়াছিন শরীফ মজুমদার বাবার রূহের মাগফিরাত কামনা করে শেষ বিদায় জানান এবং সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন। জানাজা শেষে তিনি পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ইয়াছিন শরীফ মজুমদারের বাবা রফিকুল ইসলাম মজুমদার নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে একনজর শেষ দেখা এবং জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য এই যুবলীগ নেতা প্যারোলে মুক্তি পান।
ইয়াছিন শরীফ মজুমদার পরশুরাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদারের ভাতিজা এবং তাঁর বড় মেয়ের জামাতা। এর পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পরশুরাম বিআরডিবি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আগে পরশুরাম উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে জানান, “বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ইয়াছিন শরীফ মজুমদার তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। দাফন শেষে পুলিশ পাহারায় তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
এর আগে, গত বছরের ৩০ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ এলাকা থেকে ইয়াছিন শরীফ মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
নিম্নলিখিত টেবিলে ইয়াছিন শরীফ মজুমদারের প্যারোলে মুক্তি ও পরিবারের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মুক্তির কারণ | বাবার জানাজা ও শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার জন্য |
| মুক্তির সময়কাল | ২ মার্চ, সোমবার, সকাল ৯:৩০ থেকে ১২:০০ (৩ ঘণ্টা) |
| জানাজা ও দাফনের স্থান | পূর্ব অনন্তপুর ছয়ঘরিয়া ঈদগাহ ময়দান, পরশুরাম |
| নিরাপত্তা | পুলিশ পাহারায় প্রবল নিরাপত্তা ব্যবস্থা |
| পরিবারিক সম্পর্ক | বাবার নাম: রফিকুল ইসলাম মজুমদার, ভাতিজা ও বড় মেয়ের জামাতা |
| রাজনৈতিক দায়িত্ব | পরশুরাম উপজেলা যুবলীগ আহ্বায়ক, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক |
| গ্রেপ্তারের ইতিহাস | ৩০ জুলাই, ধানমন্ডি-৩২, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার |
| জানাজায় অংশগ্রহণ | পরিবারের সঙ্গে শেষ বিদায়, সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা |
এই ঘটনায় পরশুরাম এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। স্থানীয়রা জানাজায় উপস্থিত থেকে শোক প্রকাশ করেন এবং ইয়াছিন শরীফ মজুমদারের বাবার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
সার্বিকভাবে, এই ঘটনা সামাজিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পরিবারকে শেষ বিদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।