খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানরত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ যুদ্ধদৃশ্যে অতীতের মতোই আতঙ্ক ও সতর্কতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জাহাজটির মাস্টার মোঃ শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে জানালেন, গত শনিবার জাহাজের খুব কাছেই একটি তেলের ডিপোতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটার পর থেকে নাবিকরা নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “প্রথম দিনই আতঙ্কে সবাই জাহাজের নিরাপদ কক্ষে ছুটে গিয়েছিল। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিন দূর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের ধ্বংসযজ্ঞ চোখে পড়ছে। বোমা বিস্ফোরণের আতঙ্ক ও সতর্কতার মধ্যেই দিন কাটছে আমাদের।”
জাহাজটি ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। গত শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগের দিন পৌঁছানোর কারণে পণ্য খালাস সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে সোমবার থেকে পুনরায় পণ্য খালাস শুরু হয়েছে।
মোঃ শফিকুল ইসলাম খান আরও জানিয়েছেন, “দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। জাহাজ থেকে ২০–৩০ কিলোমিটার দূরে বিস্ফোরণ হয়েছে। শুরুতে ভয় ছিল, এখন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি। সবাই সতর্ক, এবং কোনো হামলা বা আশপাশে বিস্ফোরণ ঘটলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে তা আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে নাবিকদের উদ্বেগ বেড়েছে। শফিকুল বলেন, “পণ্য খালাস শেষ হলেও পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার সুযোগ সীমিত। জেবেল আলীতে এখন বিপুলসংখ্যক জাহাজ রয়েছে। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য কী হবে, সেটিও নিশ্চিত নয়।”
জাহাজের সুরক্ষা ও মনোবল বজায় রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন নিয়মিত যোগাযোগ করছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক প্রতিদিন নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
শফিকুলের পরিবার কুমিল্লায় অবস্থান করছে। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ স্বাভাবিক, তাই নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত রাখা হচ্ছে। জাহাজের অন্য নাবিকরাও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
পুর্ববর্তী যুদ্ধজাহাজ দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও জীবন্ত: ২০২২ সালের ২ মার্চ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজ ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই হামলায় প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন, পরে জাহাজে আটকে থাকা ২৮ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন নাবিকদের মনোবল চাঙা রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন, দৈনিক খাবারের বিল ৭ ডলার থেকে ১২ ডলারে বৃদ্ধি, এবং জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ঘটনায় জাহাজের অবস্থান ও ঘটনা সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তারিখ | স্থান/বন্দর | ঘটনা | নাবিক সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | জেবেল আলী, UAE | জাহাজ পৌঁছায় | ৩১ |
| ১ মার্চ | জেবেল আলী, UAE | তেলের ডিপোতে বোমা বিস্ফোরণ | ৩১ |
| ২ মার্চ | পারস্য উপসাগর | নাবিকরা নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নেয় | ৩১ |
| ৩ মার্চ | জেবেল আলী, UAE | পণ্য খালাস পুনরায় শুরু | ৩১ |