পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলমান ছুটির মধ্যেও রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও দীর্ঘ যানবাহনের সারি, আবার কোথাও তেল না থাকায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করে। তাদের অধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামের তিনটি তেল কোম্পানি ডিপোর মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করে থাকে। এসব স্টেশন থেকেই পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়।
সম্প্রতি জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ১৯ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত সীমিত পরিসরে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে। তবে ঈদের দিন ও পরদিন ডিপোগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে। ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আগের বছরের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে মোট ১৮টি জাহাজে জ্বালানি তেল আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৭টি জাহাজ তেল খালাস করেছে। আগামী সপ্তাহে আরও ৫টি জাহাজ আসার সময়সূচি নিশ্চিত হয়েছে। তবে বাকি ৫টি জাহাজের আগমনের সময় এখনো অনিশ্চিত, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া একটি জাহাজ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জাহাজগুলো দেরিতে এলে দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও পঁচিশ হাজার টন অকটেন আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি কাজাখস্তান থেকে দুই লাখ টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়াও চলছে।
নিচে চলতি মাসে জাহাজ আগমন পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
সংখ্যা |
| মোট নির্ধারিত জাহাজ |
১৮টি |
| ইতিমধ্যে আগত |
৭টি |
| আগামী সপ্তাহে নিশ্চিত |
৫টি |
| অনিশ্চিত |
৫টি |
| এপ্রিলের শুরুতে সম্ভাব্য |
১টি |
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। খিলক্ষেত, মহাখালী, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। অনেকেই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দ্রুত তেল পাচ্ছেন না।
কিছু স্টেশনে শুধু ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রল বা অকটেন নেই। আবার কোথাও রাতেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি সরবরাহে এই সাময়িক অস্থিরতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য