আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় আজ সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখাগুলো সরকারি ছুটির মধ্যেও খোলা রয়েছে, যাতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং রপ্তানি বিল সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
গত ১০ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতের আর্থিক লেনদেন সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই খাতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন, যাদের উৎসবের আগে বেতন-ভাতা প্রাপ্তি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যাংকিং সেবা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
এই নির্দেশনার আওতায় ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম–এর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলো খোলা রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় তৈরি পোশাক শিল্পের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় বিশেষভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেন চলবে। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম দুপুর ২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। এছাড়া দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতা পাবেন বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকার ইতোমধ্যে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে এবং ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে ঈদের নির্ধারিত ছুটি। সাধারণত এ সময়ে সব ব্যাংক বন্ধ থাকে। তবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তৈরি পোশাক খাতের কার্যক্রম সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিচে আজকের সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় |
বিবরণ |
| কার্যক্রমের ধরন |
সীমিত ব্যাংকিং সেবা |
| কার্যদিবস |
১৮ ও ১৯ মার্চ |
| লেনদেনের সময় |
সকাল ১০টা – দুপুর ১টা |
| অফিস সময় |
দুপুর ২টা পর্যন্ত |
| নামাজের বিরতি |
১টা ১৫ – ১টা ৩০ মিনিট |
| প্রযোজ্য এলাকা |
ঢাকা, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম |
| সেবার উদ্দেশ্য |
বেতন-ভাতা প্রদান, রপ্তানি বিল কার্যক্রম |
| কর্মীদের সুবিধা |
বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতা |
এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন শ্রমিকদের সময়মতো প্রাপ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের রপ্তানি কার্যক্রমও সচল রাখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।