খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তারকে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা সাজানোর ঘটনা ঘটে। পুলিশ শুক্রবার বিকেলে শিশুটির চাচি কল্পনা আক্তারকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আবদুর রহমানের কন্যা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা আক্তার হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কল্পনা আক্তার ও শিশুটির মা প্রিয়া খাতুনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। অভিযোগ, সেই রোষ ও ক্ষোভ থেকে কল্পনা নুজাইফাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নিজের ওড়না ব্যবহার করে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে শিশুটির মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে হত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন।
গ্রামবাসী শিশুটিকে বিকেল ৪টার দিকে বাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার পরও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত কল্পনা আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুর মৃত্যু এলাকাবাসীর মধ্যে ভয়, শোক এবং ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৮ মার্চ, বিকেল ৪টা |
| স্থান | দক্ষিণ দাড়ের পাড়া, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া |
| নিহত | নুজাইফা আক্তার, ২.৫ বছর বয়সী |
| অভিযুক্ত | কল্পনা আক্তার (শিশুর চাচি) |
| হত্যার ধরন | শ্বাসরোধ ও মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা সাজানো |
| পুলিশ পদক্ষেপ | অভিযুক্ত আটক, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ |
| পরিবারিক পটভূমি | শিশুর মা ও অভিযুক্ত চাচির মধ্যে দীর্ঘদিন পারিবারিক বিরোধ |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের নির্মম ঘটনা পারিবারিক বিরোধ ও রাগের প্রভাবে সংঘটিত হয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা, তদারকি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
এ ঘটনায় কেবল দোষী ব্যক্তির বিচার নয়, বরং সদ্যজন্ম শিশুদের সুরক্ষা ও পরিবারের সহমর্মিতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। কুষ্টিয়া জেলার প্রশাসন এবং পুলিশ ব্যবস্থা এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে উদগ্রীব।