খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫০ পিএম
পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসনাইন রাসেল মাত্র চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তাঁর মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন। রাসেল ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার সাবেক মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।
গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে রাসেলের নিজ বাড়ি ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে বহনকারী গাড়িটি সেখানে পৌঁছানোর আগেই বিপুলসংখ্যক আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী ভিড় জমান। গাড়ি থেকে নেমে রাসেলের বাড়ির উঠানে ফ্রিজার ভ্যানে রাখা মায়ের মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন এবং অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানান। এরপর আবার কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের জানাজাস্থলে।
জানাজা শুরুর ঠিক আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, আজ এখানে যাঁরাই সমবেত হয়েছেন, তাঁরা সবাই আমার মাকে ভালোভাবে চেনেন। তিনি পাটুলিপাড়ার মেয়ে ছিলেন। আমাদের ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত দেখে এসেছি তিনি কত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। রান্নাঘরের বাইরে তাঁকে খুব একটা দেখা যেত না। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের জন্য চুলায় রান্না করে গেছেন। আমার বিশ্বাস, আমাদের বাড়িতে যারা কখনো পা রেখেছেন, তাঁদের অনেকেই মায়ের হাতের রান্না করা ডাল-ভাত খেয়েছেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন অতি সাধারণ ও নিবেদিতপ্রাণ গৃহিণী ছিলেন।
এ সময় উপস্থিতি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে রাসেল আরও বলেন, আজ আমার প্রিয় মা আমাদের মাঝে নেই। এই শোকাচ্ছন্ন দিনে আমার মায়ের রুহের মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী। মানুষ হিসেবে ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক, আল্লাহ যেন তাঁকে মাফ করে দিয়ে জান্নাতবাসী করেন এবং কবরের সওয়াল-জবাব সহজ করে দেন। তিনি এলাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার পরিবার বা আমাদের পক্ষ থেকে যদি অতীতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন বা কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে হাতজোড় করে সবার কাছে মাফ চাইছি। আপনারা আমার মাকে এবং আমাদের পরিবারকে ক্ষমা করে দেবেন।
জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলাসহ আশেপাশের নানা এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ ও দলীয় সমর্থকেরা অংশ নেন। জানাজা শেষে রাসেলের উপস্থিতিতে পার ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে তাঁর মায়ের দাফন সম্পন্ন হয়। তিনি নিজ হাতে মায়ের কবরে মাটি দেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই নির্ধারিত চার ঘণ্টার প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশ পাহারায় আবার তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন রাসেলের মা ও সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানান রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে প্রায় দেড় মাস আগে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে শেষ কয়েক দিন তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে পুলিশ সাবেক এমপির ছেলে রাসেল ও তাঁর সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের নথিপত্র কারাগারে পৌঁছানোর আগেই বৃহস্পতিবার সকালে চাটমোহর থানার একটি মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার বা ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়। ফলে আদালতের জামিন থাকা সত্ত্বেও তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি। পরবর্তীতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের নিকট প্যারোলে মুক্তির বিশেষ আবেদন জমা দিলে চার ঘণ্টার শর্তসাপেক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করা হয়, যা রাসেলের মায়ের জানাজা ও শেষকৃত্যে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়।
মন্তব্য