গাইবান্ধায় তেলের ঘাটতিতে বাইকারদের সড়ক অবরোধ

গাইবান্ধা জেলায় তেলের তীব্র ঘাটতি ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শত শত মোটরসাইকেল চালক সড়ক অবরোধে নামে। জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও অধিকাংশ বাইকার কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধকারী বাইকাররা এক ঘণ্টা পরে সড়ক খালি করেন।

তেলের ঘাটতি ও বিক্ষোভ

মঙ্গলবার দিনভর জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল না পাওয়ায় বাইকাররা বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়কে দুপুরে বিক্ষোভের সময় যান চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। গাইবান্ধা শহরের কাদিরিয়া ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১১টার দিকে পেট্রোলবাহী গাড়ি রাস্তায় পৌঁছেছে এবং পুলিশি সহায়তা পেলে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তেল বিতরণ শুরু হতে পারে। এছাড়া গভীর রাতে গোবিন্দভোগ এলাকার একটি পাম্পে বাইকারদের তেল দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

গত সোমবার (২৩ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে পাম্প মালিকদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ উপস্থিত থাকবেন। হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া যাবে না।

সেই অনুযায়ী সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডিবি রোড ও বাসস্ট্যান্ড এলাকার পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল বিতরণ করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত বাইকার ভিড় করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাননি, বিশেষ করে যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না।

জেলায় চাহিদা ও সরবরাহের তুলনা

পাম্প মালিকদের সংগঠন এবং প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী জেলার দৈনিক তেলের চাহিদা ও বিতরণ নিম্নরূপ:

জ্বালানি প্রকার দৈনিক চাহিদা (লিটার) সরবরাহ (লিটার) মন্তব্য
পেট্রোল ৭,০০০ অপ্রতুল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে
অকটেন ৪,০০০ সীমিত অনিয়মিত সরবরাহ
ডিজেল ৩২,০০০ অপ্রতুল চাহিদার তুলনায় কম

প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বাধিক ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, যাতে অপচয় ও মজুতদারি রোধ হয়। তবে সরবরাহ কম হওয়ায় পরিস্থিতি এখনও অবনতি রয়েছে।

বাইকারদের অভিযোগ

একজন বাইকার বলেন, “কয়েকদিন ধরে তেল খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না। এতে আমাদের কাজকর্ম এবং জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে।” তারা অভিযোগ করেছেন, জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ নোটিশ লাগানো থাকে এবং স্থানীয় হাট-বাজারে বোতলজাত পেট্রোল ও ডিজেল দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, জেলায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। এসএ কাদি এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, ৪,০০০ লিটার তেল রাত ৩টার দিকে শেষ হয়ে গেছে। আর রহমান পাম্পের ম্যানেজার জানান, রাত ৮টা থেকে বিতরণ শুরু করে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে শেষ হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ বাইকার ও সাধারণ মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন এবং পাম্প কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সমাধান এনে দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন করবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।