খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চিত্র উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি হিসাব ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখা গেছে, যা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ঈদ ছুটিতে সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক তথ্যে, এই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক আহত হয়েছেন।
সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার মধ্যে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে বিআরটিএর ২১ মার্চের ২৪ ঘণ্টার তালিকায় কুমিল্লার কোনো দুর্ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ঈদ উপলক্ষে দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চাপ চোখে পড়ার মতো ছিল। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরের দিনের বিকেল পর্যন্ত ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। অধিকাংশ আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত ঈদযাত্রা ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়—ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছরের একই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে এই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন প্রাণ হারান, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ এবং ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও, অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছিল, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কমেনি।
নিম্নে ঈদ ছুটির সাত দিনে সরকারি হিসাবে দৈনিক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| তারিখ | দুর্ঘটনার সংখ্যা | নিহত | আহত |
|---|---|---|---|
| ১৭ মার্চ | ১২ | ১৫ | ১৫ |
| ১৮ মার্চ | ১৮ | ১৩ | ৬২ |
| ১৯ মার্চ | ১১ | ৮ | ৭ |
| ২০ মার্চ | ৬ | ৮ | ৩৬ |
| ২১ মার্চ | ১৭ | ১৫ | ২৫ |
| ২২ মার্চ | ১৯ | ৩২ | ৬০ |
| ২৩ মার্চ | ৯ | ৯ | ১২ |
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, প্রাপ্ত তথ্য প্রাথমিক। ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হতে পারে।
অন্যদিকে, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা থাকে। কারণ, এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, ঈদযাত্রার সময় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে প্রতিটি বছরই মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও কড়াকড়ি আইন প্রয়োগ অপরিহার্য।